Text

মেহেরজান প্রসঙ্গে ব্লগ ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশিত লেখার আর্কাইভ

বিতর্কিত চলচ্চিত্র মেহেরজান ইস্যুতে বাংলা ব্লগেস্ফিয়ার গত কিছুদিন ধরে বেশ তুমুল আলোচনা হয়েছে। প্রায় প্রতিটা ব্লগেই ব্লগাররা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে ব্লগারদের ধারণা সাধারণভাবে নেতিবাচক। ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে খুব কম। মেহেরজান প্রসঙ্গে সনাতন ব্লগ প্রবন্ধের অতিরিক্ত গল্প, অনুগল্প, নাটক, কবিতা, কার্টুনও ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে এতোটা চাঞ্চল্য ব্লগগুলোতে হাতে গোনা কয়েকবার দেখা গিয়েছে।

মেহেরজান চলচ্চিত্রের সহকারি পরিচালক ফারজানা ববি অভিযোগ করেছেন [লিংক] “একটি শৈল্পিক কাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি শৈল্পিকভাবে চিহ্নিত না করে মুষ্টিমেয় জনমতকে অপপ্রচারে উত্তেজিত করার মাধ্যমে নস্যাৎ করার এ হেন চর্চা আপামর শিল্পী-সাহিত্যিক ও মুক্তবুদ্ধির চর্চারকারী যে কারো জন্যই অশুভ ইঙ্গিতবাহী।” ফারজানা ববি একসময় ছাত্র আন্দোলন করতেন। প্রভাবশালি মিডিয়া, সরকার ইত্যাদির মতো গেড়ে বসা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যে শৈল্পিক উপায়ে হয় না এটা উনি ভালো করেই জানে। মানুষ শেষ পর্যন্ত তার কথাটা কথাটা বলবেই। পাশার দান উল্টে অবস্থান পরিবর্তিত হলে মানুষ কীভাবে ক্ষমতার চক্রে থাকা মানুষদের মতো কথা বলতে পারে ফারজানা ববির এই মন্তব্য সেটার একটা উদাহরণ তৈরী করলো।

imageq

বাংলাদেশে সোশাল মিডিয়া এখনও শৈশব অতিক্রম করছে। অনেক অপরিপক্কতা সত্ত্বেও মানুষ এই মিডিয়াতে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। দখল হয়ে থাকা ট্রাডিশনাল মিডিয়াতে আম জনতার জায়গা নেই। অনেক সময় হোমরা চোমরারাও সম্পাদনার কাঁচিতে পড়েন। আমরা এই সোশাল মিডিয়াতেই জানতে পারি কাবেরি গায়েন, রোবায়েত, মাহমুদুজ্জামান বাবু, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর কলাম থেকে ৪০০ শব্দ ঝরে পড়েছে। হয়তো যথেষ্ট পরিমানে শৈল্পিক ছিলো না সেগুলো। আমরা ব্লগাররা আত্নবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি ব্লগ, ফেইসবুকের মতো সোশাল মিডিয়া অন্তত এই নিয়ন্ত্রন থেকে মুক্ত। নিজের বলাটা এখানে বলা যায়। সনাতন মিডিয়াতে যে মানুষের ভাবনার সঠিক প্রতিফলন ঘটে না সেটা ব্লগে প্রকাশিত পোস্টগুলো এবং সনাতন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরগুলোর ভাষা, মত ইত্যাদি তুলনা করলে পরিস্কার হয়।

সনাতন মিডিয়ার এই সমস্ত শৈল্পিক লেখা ছাপিয়ে জয় হোক ব্লগিঙের।

মেহেরজান টাইমলাইন



১লা নভেম্বর ২০০৮ – রাজীব আহমেদ মেহেরজানের শুটিং হচ্ছে বলে সামহয়ারইনে পোস্ট দেন। তার দাবি অনুযায়ী তিনি এর পরিচালনার (এসোসিয়েট প্রডিউসার) সাথে যুক্ত। পরবর্তীতে এসোসিয়েট প্রডিউসার হিসেবে ইশতিয়াক জিকোর নাম আমরা জানতে পারি।
২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ – সেন্সর ছাড়পত্র
১৮ই জানুয়ারি ২০১১ – প্রিমিয়ার
২১শে জানুয়ারি ২০১১ – দেশের ৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি
২৯শে জানুয়ারি ২০১১ – ‘মেহেরজান’কে প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রত্যাহার




এই পোস্টে মেহেরজান নিয়ে ব্লগে, ফেইসবুকে, পত্রিকাতে প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করার চেষ্টা করেছি। আপাতত পহেলা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোস্টগুলো এখানে তোলা হলো। পরবর্তীতে আসা পোস্টগুলোও এখানে পর্যায়ক্রমে যোগ হবে। পোস্ট বাছাইতে মতাদর্শিক পার্থক্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কপি পেস্ট পোস্ট, রিপোস্ট ও নিতান্তই বক্তব্যবিহীন পোস্ট বাদ পড়েছে।

লিংক সরবরাহ করে এই পোস্টটি আপডেট করতে পাঠকদের সহযোগিতা কামনা করছি।

সামাজিক মাধ্যম

সচলায়তন



[২২-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’: পাকিসঙ্গমের ফোকফ্যান্টাসি অনিন্দ্য রহমান [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] বর্জন করুন মেহেরজান – আনন্দী কল্যাণ [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] রুবাইয়াত যা বলতে চেয়েছে – হিমু [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] [কার্টুন] PhD Comics: মেহেরজান – দ্রোহী [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান- যা দেখলাম – বুনোহাঁস [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] বাঘাদা, হীরা কত নিলে শুনি? – হিমু [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] রুবাইয়াত হোসেনের মিথ্যাচার – শুভাশীষ দাশ [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মেহেরজান: একটি ভুল ও ভিত্তিহীনতার কাহিনী: নাদির জুনাইদ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [গল্প] আদমচরিত ০৩১ – মুখফোড় [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ফ্রেন্ডস অফ মেহেরজান – ১ – শুভাশীষ দাশ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [নাটক] নাটকঃ মেহেরজান এবং মেরুদন্ডহীন আমরা – সাদ মাহবুব [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] বিনির্মানের চাতুরি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুনপাঠ – হাসিব [লিংক]
[০১-০২-২০১১] [অনুগল্প] ডিসকোর্স – শুভাশীষ দাশ [লিংক]
[০৪-০২-২০১১] [গল্প]পুনর্মাশুকভব – হিমু [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] রুবাইয়াত কথিত সুসমাচার! – শুভাশীষ দাশ [লিংক]
[০৮-০২-২০১১] আজাইরা দেরিদা – অনিন্দ্য রহমান [লিংক]
[০৮-০২-২০১১] মেহেরজান কেন “নিষিদ্ধ”? – নজরুল ইসলাম [লিংক]

চতুর্মাত্রিক



[২৫-০১-২০১১]বর্জন করুন মেহেরজান – পল্লব [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান – ফানাহ – বীরজারা : বিতর্কের কাঁটাছেড়া : রোমান্স ক্রসিং এনিমি লাইন / নট ক্রসিং কন্ট্রোভার্সি লাইন…… দাসত্ব [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] একটি ভিন্নধর্মী ভালবাসার ছবি এবং একটি যুদ্ধের ছবি – মেহেরজান – মাছুম চৌধুরী [লিংক]
[৩১-০১-২০১১][গল্প] গুলজান–একটি গন্ডগোল ও ভালুবাসার কাহিনী – দখিনো হাওয়া [লিংক]
[০১-০২-২০১১][গল্প] মেহেরজান পার্ট টু – আরণ্যক [লিংক]
[সাইট অফলাইন] নানাজানদের ছবি – তনুজা [লিংক]

আমরা বন্ধু ব্লগ



[২৩-০১-২০১১] মেহেরজান বিতর্ক – রাসেল [লিংক]
[২৩-০১-২০১১] মেহেরজান-পাকমন পেয়ারুদের আরেকটি প্রজেক্ট? – অনন্ত [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান বিষয়ে আবর্জনামার্কা নির্বোধ দেশপ্রেমিকের সকাতর প্রকাশ- ওটাকে নিষিদ্ধ করে দাও – রাসেল [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজানঃ একাধিক বিয়েপাগলের সমাহার ও একটি প্রেমের ফোক ফ্যান্টাসি (মুক্তিযুদ্ধের গোলমরিচের গুড়া ফ্রি) – বৃত্তবন্দী [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান : আবার খানিকটা চাবানি – শাওন৩৫০৪ [লিংক]

নাগরিকব্লগ



[২৩-০১-২০১১]মেহেরজান-পাকমন পেয়ারুদের আরেকটি প্রজেক্ট? – অনন্ত [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান থেকে যা বুঝি নাই – বহিরাগত [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ’মেহেরজান’ ছবির পরিচালকের কাছে খোলা চিঠি – নূর নবী দুলাল [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ওরা এখনো মরে নি, সমাজের আনাচে কানাচে এখনো ঘাপটি মেরে আছে – আবরার আলভী [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] ওমর রহিমের সাথে কথপোকথনঃপাকি মানসিকতার আরো একটি দলিল – [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] ফুটোর গভীরে – শেরপা [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] প্রসঙ্গ “মেহেরজান”: প্রিডিটারমাইন্ড প্রিয়ভাষিনী এবং একজন হোগারপোলা… – জনৈক বাঙাল [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] “মেহেরজান” এর রিভিউ নাহ এইটা … – অতিথি পাখি [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান যা তথ্য দিল – অন্ধকারের পথিক [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] “মেহেরজান” ছিঃনেমার নামকরণ – গুরুভাই [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান থেকে যা বুঝি নাই……… – বহিরাগত [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লীজ একখান ব্যবস্থা করেন। – নুর নবী দুলাল [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] ওমর রহিমের সাথে কথপোকথনঃপাকি মানসিকতার আরো একটি দলিল – আবরার আলভী [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মেহেরজান বিতর্কে সাম্প্রতিক ভাবনাঃ সাম্রাজ্যবাদি আর স্বাধীনতা বিরোধী যখন এক কাতারে – অনন্ত [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ওরে নারে রুবাই্য়্যাত বলছে “দর্শক ‘মেহেরজান’কে গ্রহণ করেছে। সেই অর্থে চলচ্চিত্রটি অবশ্যই সফল।” হাসতেই আছি – বহিরাগত [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [কবিতা ]অভিমান কিংবা শাদা মেঘ। – নূর সিদ্দিকী [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] মেহেড়ঝান প্রদর্শন বন্ধ, ববি’র প্রতিবাদ ও এখন আমাদের যা করনীয় – লেনিন হায়দার [লিংক]
[০১-০২-২০১১] ভাইগণ, নব্য রাজাকারদের নয়া কৌশল। একটু নজর দিন – গুরুভাই [লিংক]
[০১-০২-২০১১] সিডো শৈল্পিকতা ও নিষিদ্ধতার আকড় – শেরপা [লিংক]
[০১-০২-২০১১] [কবিতা] মেহেড়ঝান পদ্য – মাটির মানুষ [লিংক]
[০২-০২-২০১১] মেহেরজানের পক্ষে মানব-বন্ধনে গেলেই ১ হাজার টাকা – নিরিবিলি [লিংক]
[০৩-০২-২০১১] মেহেরজান পুনঃ প্রদর্শনের দাবীতে যারা মানববন্ধন করছেন, আসুন তাদের চিনে নেই – আবরার আলভী [লিংক]
[০৪-০২-২০১১] ছাগল বন্ধনে চাচার কাহিনী – আবরার আলভী [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] রুবাইয়াত আন্টিকে ক্ষেপিয়েছেন!!! আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরামহীন লজ্জা – আবরার আলভী [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] থিসিসধারী একজন রুবাইয়্যাত এবং তাহার নারী অবমাননার সহজ পাঠ!!! – আগামেমনন [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] আমি মূর্খ বলছি…- প্রীতম [লিংক]
[০৭-০২-২০১১] গন্ডগোল নাকি মুক্তিযুদ্ধ? – আগামেমনন [লিংক]
[১০-০২-২০১১] ‘গোবর-মস্তিস্ক’ বনাম যুক্তিশীলতা অথবা ‘গন্ডগোল’ বনাম মুক্তিযুদ্ধ – মেঘনা পাড়ের ছেলে [লিংক]
[১১-০২-২০১১] কালেরকন্ঠ ও তারেক আহমেদের কষা ডিস্কোর্স এবং আমাদের সোনা ব্লগ – লেনিন হায়দার [লিংক]
[১১-০২-২০১১] ‌আলু সমাচার – রুবাইয়্যাত [লিংক]

সামহয়ারইনব্লগ



[০১-১১-২০০৮] মেহেরজান বাংলা সিনেমা…. শ্যুটিং চলছে – রাজীব আহমেদ [লিংক]
[২১-০১-২০১১] মেহেরজান এর কিচ্ছা! – অসমাপ্ত-মহাকাব্য [লিংক]
[২২-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ : ভুল পরিপ্রেক্ষিত ও ভুল ভালোবাসার গল্প – একরামুল হক শামীম [লিংক]
[২৩-০১-২০১১] মেহেরজান!! একটি আপছুছের নাম!! – সিফুবাবা [লিংক]
[২৫-০১-২০১১] মেহেরজান : বিশেষ এজেন্ডার বিশেষ ছবি – দাউদ রনি [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ – নয়ন_বাবু [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান আছে!! কিন্তু রুমিকে নিয়ে সিনেমা নেই!! (Rumi – The Legend) – জিকসেস [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান চলছিত্রটি নিয়ে আমার কিছু কথা – তুফান মেইল [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান- ঘৃণা ও সমালোচনার বাইরে কিছুই পাবে না – স্পেলবাইন্ডার [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান: মুক্তিযুদ্ধ ও নারীর প্রতি অবমাননার ছবি – গুরুভাই [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান:- নির্লজ্জতার চরম নমুনা – কালকুট [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান কি শুধুই চলচিত্র? নাকি আম্লীগের গোপন পাকি প্রেম? – বাংলাদেশ জিন্দাবাদ [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান ঃ অবমাননায় নারী ও ছাত্র ইউনিয়ন – আনিচ রহমান [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজানঃ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঔদ্ধতপূর্ণ বেহেয়াপনার ফ্যান্টাসী – রাহা [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজানের পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন এক মন্ত্রীর মেয়ে -তার ঘরেই আছে সিনেমার কাহিনী। – কৃষ্ণনগর [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] প্রথম আলো, মেহেরজান এবং মুফতে পাওয়া প্রচার – অমিয় উজ্‌জ্‌বল [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান দেখে যে জ্ঞান লভিবেন – জীবরান [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ ছবির পরিচালকের কাছে খোলা চিঠি – কুমার ফাগুন [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ মুক্তিযুদ্ধকে ধর্ষন এর একটি চেষ্টা ই শুধুমাত্র – মুর্খমানব [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] যুদ্ধপরাধের বিচার বন্ধ কর নইলে মেহেরজান নিষিদ্ধ হোক – দীপরাজ [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান: যুদ্ধ ও ভালবাসার মালিকানার মামলা ১ – ফারুক ওয়াসিফ [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান: যুদ্ধ ও ভালবাসার মালিকানার মামলা ২ – ফারুক ওয়াসিফ [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান – ফানাহ – বীরজারা : বিতর্কের কাঁটাছেড়া : রোমান্স ক্রসিং এনিমি লাইন / নট ক্রসিং কন্ট্রোভার্সি লাইন…… – দাসত্ব [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান নিয়ে আমার আপত্তি! – প্রলাপ [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান নিয়ে কয়েক ছত্র – কাদা মাটি জল [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] যুদ্ধ ও ভালবাসার মালিকানার মামলা ৩ : মেহেরজানের নারীরা – ফারুক ওয়াসিফ [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] ভীর-জারা (২০০৪) = মেহেরজান(২০১১) ???? – অগ্নিলা [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান-২(ফান-ফ্যান্টাসি সিক্যুয়েল – ব্যাঙ্গরসাত্মক/বিদ্রুপাত্মক পোষ্ট) – তমাল গূরু [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] ফারুক ওয়াসিফের “মেহেরজান” নিয়ে লেখাটির প্রতিবাদ। – আশাহত [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] “মেহেরজান” নিষিদ্ধ হচ্ছে কি? – মাল্টি নিক [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] রাজাকারদের কি মেহেরজানের মতো মনে হয়? – নষ্টছেলে [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মননে ও মগজে দ্রোহের বারুদ জমাই – রুবাইয়াৎ আহমেদ [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] একটি ছিঃনেমা : নায়ক পাকিস্তানী, লায়িকা বলেন তো কে? ভিলেন : হা হা হা – লোচনদাস কারিগর [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] প্রসঙ্গ ‘মেহেরজান’-১ – রাজীব নুর [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মেহেরজান: যুদ্ধ ও ভালবাসার মালিকানার মামলা ৪ দুই এলিটের বাসনাবন্দী মুক্তিযুদ্ধ। আমার সিদ্ধান্ত – ফারুক ওয়াসিফ [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] প্রসঙ্গ ‘মেহেরজান’-২ – রাজীব নুর [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] প্রসঙ্গ ‘মেহেরজান’-৩ – রাজীব নুর [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] “পাকিরজান মেহেরজান”- সকল বিষয়ের উপর ফেন্টাসি হয়না – নীরব দর্শক [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মেহেরজান ও আমাদের ঘৃণা-ভক্তির সংস্কৃতি – মোকাররম [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] প্রসঙ্গ ‘মেহেরজান’-৪ – রাজীব নুর [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] প্রসঙ্গঃ “মেহেরজান” – এ প্রথম আলোর স্বজনপ্রীতি আবার আড়িয়াল বিল ইস্যুতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনীতিবিদের জন্য হুঁশিয়ারি। – ঠোঁটকাটা নির্লজ্জ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] মেহেরজান: বিনির্মাণে বিপত্তি ও জাতীয়তাবাদী আবেগ – ফাহমিদুল হক [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ ছবির প্রদর্শনী অব্যাহত থাকুক ও সেইসঙ্গে ‘মেহেরজান’ ছবির পরিচালক রুবাইয়াৎ হোসেনকে কিছু বেদনাবিদ্ধ জিজ্ঞাসা : বাকী বিল্লাহ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] মেহেরজান নিয়ে একটি প্রতারণা– লোচনদাস কারিগর [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] প্রাপ্তমনস্কদের জন্য পোস্ট ( বয়স দিলাম না, বয়সের সাথে সাথে সবাই প্রাপ্তমনস্ক হয় না) – রাগ ইমন [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] (কি /বি ? )ভিন্ন ধারার চলচিত্র (চিত্রকল্প / কল্প চিত্র) একপিছ মেহেরজান , মুক্তি যুদ্ধ কদুর তেল ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পাইলস ও পলিপ চিকিৎসালয় এবং ০ ডিগ্রী ও ৩৬০ ডিগ্রীর পার্থক্য – মা-নবি০৩ [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] ধর্ষিত ইতিহাস বনাম ডিকনস্ট্রাকশন,অতিআবেগ,ডিসকোর্স এবং আমাদের অচ্ছুত নিরবতা – ফারা তন্বী [লিংক]
[০১-০২-২০১১] মেহেরজানের রাজনীতি আর পশ্চাতপদ প্রগতিশীলতা এবং বাংলার ভূত-ভবিষৎ – আওয়াজ বা উচ্চারণ [লিংক]
[০১-০২-২০১১] মেহেরজান : ইতিহাস পুনঃনির্মাণের ডিসকোর্স – রিজভী [লিংক]
[০১-০২-২০১১] মেহেরজান ছবি নিয়ে বাকি বিল্লাহ এবং তার সহ লেখকদের লেখার প্রক্ষিতে কতিপয় কথা – আওয়াজ বা উচ্চারণ [লিংক]
[০১-০২-২০১১] কিছু কথাযোগ এবং বানান বিয়োগ করে মেহেরজান নিয়ে বাকি বিল্লাহ’র কথা ধরে কিছু কথা – আওয়াজ বা উচ্চারণ [লিংক]
[০৫-০২-২০১১] তার মানে… ঠিক পথেই এগুচ্ছে বাংলা ব্লগ; আপনাকেই ক্ষমা চাইতে হবে রুবাইয়্যাত হোসেন। – আলিম আল রাজি [লিংক]
[০৮-০২-২০১১] মেহেরজান – সত্যচারী [লিংক]
[১২-০৩-২০১১] ”মেহেরজান ” বিষয়ে মফিদুল হক যা বললেন – ফকির ইলিয়াস [লিংক]

আমার ব্লগ



[২১-০১-২০১১] মুক্তি পাচ্ছে বিতর্কিত ছবি “মেহেরজান” – ব্যাক বেঞ্চার [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজানের বিজয়গান করি – সরব [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান থেকে যা বুঝি নাই……… – বহিরাগত [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ধন্যবাদ মেহেরজান আরেকবার বামদের মুখোষ খুলে দেবার জন্যে। – আমরা সেই সে জাতি [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] ভালবাসি ভালবাসি( একটি পাকি প্রেমে ভরপুর পোষ্ট) – জামাতহেটার(এম আর ৯) [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] অভিনয় কি করতেই হৈবো? – বস্তির ফুল [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] সুজোগ চাই সুশীল হব – মুরুব্বি [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] মেহেরজান এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রেম – বস্তির ফুল [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ওরে নারে রুবাই্য়্যাত বলছে “দর্শক ‘মেহেরজান’কে গ্রহণ করেছে। সেই অর্থে চলচ্চিত্রটি অবশ্যই সফল।”হাসতেই আছি – বহিরাগত [লিংক]
[০১-০২-২০১১] মেহেরজান এবং কিছু কথা – ধ্রুবতারা৩৫০৯ [লিংক]
[০৫-০২-২০১১] [কার্টুন]গ্যাসটিক এন্ড প্যাচটিক: মেহেরজান বিতর্ক – কিশোর [লিংক] [মিরর]

অন্যান্য ব্লগ



[২৪-০১-২০১১] [প্রাকৃতজন] মেহেরজান’ বিষয়ক একটি অতি অশালীন পোস্ট [লিংক]
[২৫-০১-২০১১] [realtimebangladesh] Why The Forbidden Love Story Meherjaan Should Be Banned! [লিংক]
[২৫-০১-২০১১] [সবুজ বাংলা ব্লগ] মেহেরজান:যেসব কারণে পাকিস্তানীদের ভাল লাগে না – সত্যকথন [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] [প্রিয়.কম] রুবাইয়াতের খান বাহাদুর মানস – মাসকাওয়াথ আহসান [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] [আলী মাহমেদ] মেহেরজান এবং কতিপয় বিলিয়ে দেয়া জান! – আলী মাহমেদ [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] [অনার্য সঙ্গীত] খুদাপেজ মেহেরজান [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] [স্বপ্নের ফেরিওয়ালা] শুরু হলো বন্ধের বাজনা: মেহেরজান [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [মুক্ত অভি’র ব্লগ] ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্র নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বিতর্ক ও কিছু কথা [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] [স্বপ্নবাজ] মেহেরজান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ছবি। প্রদর্শনী বন্ধ। – অভি [লিংক]
[০১-০২-২০১১] [কার্টুন] [হাঁটুপানির জলদস্যু] বাংলার চে গুয়েবাড়া ফারুক ওয়াসিফ [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] [শব্দনীড় ব্লগ] মেহেরজান নিয়ে দুইটি মন্তব্য [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] অযথা সময় নষ্ট করবেন না রুবাইয়্যাত, আপনি বরং মেহেরজান উর্দুতে ডাব করে ফেলুন, দু’এক টুকরো পাকি-রোটি জুটবে আপনার কপালে নিশ্চিত [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] [প্রিয়.কম] রুবাইয়াতের আজাইরা ফিল্ম বনাম আযাইরা ব্লগিং [লিংক]
[১০-০২-২০১০] [Mukti] On Meherjaan [লিংক]
[২২-০২-২০১০] [উন্মোচন ব্লগ] আমার না দেখা মেহেরজান – যূথচারী [লিংক]
[২৮-০২-২০১০] [বাঙালিব্লগ] মেহেরজান : অন্তরালে বিষাক্ত ছোবল – হৃদয় দ্য গ্রেট .. [লিংক]
[০৮-০৪-২০১০] [sonyarehman] ‘Meherjaan’ and the dancer [লিংক]

ফেইসবুক



[১৯-০১-২০১১] মেহেরজান: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গোলাপি ফ্যান্টাসির ছবি – কল্লোল মোস্তফা [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান নিয়া দ্বিতীয় কিস্তি – কল্লোল মোস্তফা [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান : পরিচালকের বলা ‘কল্পকাহিনী’ আর অভিনেতার বলা ‘সত্যকাহিনী – ইকরামুল হক শামীম [লিংক]
[২৭-০১-২০১১] মেহেরজান : জব্দ হোক সব রিল,গ্রেপ্তার হোক পরিচালক রুবাইয়াত – আখতারুজ্জামান আজাদ [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] চলচ্চিত্র সমালোচনার সাম্প্রতিকতম চালচিত্র ঃ বিতর্ক বনাম বিদ্বেষ – আহমেদ শামীম [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] কোন আইডেন্টিটি ধর্ষণের সাথে সরাসরি যুক্ত? ফারজানা ববি [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] মেহেরজানের নামকরণ – তৎসম বাঙালি [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] মেহেরজাননামা – নাসিফ আমিন [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] মুক্তিযুদ্ধের বিনির্মাণ? – শাহতুব সিদ্দিকী অনিক [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] মেহেরজান……. মুলধারায় নারীবাদী চলচ্চিত্র প্রচেষ্টার বিপত্তি – নাসরিন লাবনী [লিংক]
[৩১-০১-২০১১] মেহেরজান – গীতিআরা নাসরিন [লিংক]
[অানএ্যাভাইলেবল] ১৯৭১ ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা – নাইম মোহাইমেন [লিংক]
[০৩-০২-২০১১] গুলমোহর থেকে মেহেরজানের কিসসা: একটি পাকি নুনুযন্ত্র একটি পাকি ষড়যন্ত্র – কুলদা রায় [লিংক]
[১০-০২-২০১১] বাকুম বাকুম, ঢিসুম ঢিসুম… – Nayeem Hossain [লিংক]

সনাতন প্রচার মাধ্যম

প্রথম আলো



[৩১-১০-২০০৯] ঢাকা ঘুরে গেলেন জয়া বচ্চন [লিংক]
[০৫-১১-২০০৯] জয়ার সঙ্গে এক বিকেল – আনিসুল হক [লিংক]
[২৭-১২-২০১০] ২১ জানুয়ারিতে মেহেরজান [লিংক]
[২৮-১২-২০১০] ২১ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[৩১-১২-২০১০] মুক্তিযুদ্ধ ও বীরাঙ্গনাদের ব্যাপারে জয়ার আগ্রহ [লিংক]
[৩১-১২-২০১০] জয়া বচ্চন আসছেন না [লিংক]
[১৯-০১-২০১১] যুদ্ধ ও ভালোবাসার গল্পের ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[২০-০১-২০১১] নানাজানের সঙ্গে আমার অনেক মিল — ভিক্টর ব্যানার্জি [লিংক]
[২০-০১-২০১১] দক্ষিণ এশিয়ার ছবি মেহেরজান – ইকবাল হোসাইন চৌধুরী [লিংক]
[২২-০১-২০১১] সময়ের তারকা – ভিক্টর ব্যানার্জি [লিংক]
[২৩-০১-২০১১] ক থো প ক থ ন – ছবিতে বিতর্কিত কোনো বিষয় নেই [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজান – মুক্তিযুদ্ধ ও নারীর প্রতি অবমাননার ছবি – রোবায়েত ফেরদৌস, মাহমুদুজ্জামান বাবু কাবেরী গায়েন ও ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’ যা বলতে চেয়েছে – রুবাইয়াত হোসেন [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] বন্ধ হলো ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ ছবির প্রদর্শনী বন্ধ! [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] মেহেরজান – বিনির্মাণের বিপত্তি ও জাতীয়তাবাদী আবেগ [লিংক]
[০৩-০২-২০১১] মেহেরজান প্রদর্শনের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন [লিংক]
[০৯-০২-২০১১] ‘মেহেরজান’ নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক – নিষিদ্ধ নয়, চূড়ান্ত বিচারের ভার দর্শকদের হাতে দেওয়ার আহ্বান [লিংক]

কালের কন্ঠ



[২১-১০-২০১০] যেমন আছে মেহেরজান [লিংক]
[২৫-১২-২০১০] ২১ জানুয়ারি আসছে মেহেরজান [লিংক]
[৩০-১২-২০১০] সেন্সর পেল ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[২০-০১-২০১১] ২১ জানুয়ারি সারা দেশে মুক্তি পাচ্ছে ‘মেহেরজান’ ছবি [লিংক]
[২৬-০১-২০১১] মেহেরজানআপন রক্তের কলঙ্কে নতজানু – অনিন্দ্য রহমান [লিংক] [মিরর লিংক]
[২৯-০১-২০১১] আজ থেকে ‘মেহেরজান’-এর প্রদর্শনী বন্ধ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] কালের যাত্রা – পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় [লিংক][মিরর লিংক]
[০৩-০২-২০১১] মেহেরজান বিতর্ক [লিংক]
[০৮-০২-২০১১] প্রসঙ্গ মেহেরজান : শিল্পীর স্বাধীনতা, শিল্পীর দায় – তারেক আহমেদ [লিংক]

সমকাল



[১৬-১২-২০১০] সেন্সরে ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[২৫-১২-২০১০] গবেষণার কাজে ‘মেহেরজান’-এর টিকিট বিক্রির অর্থ [লিংক]
[২৮-১২-২০১০] ‘মেহেরজান’-এ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য [লিংক]
[৩০-১২-২০১১] সেন্সর ছাড়পত্র পেল ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[০৭-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ ছবির পর [লিংক]
[১১-০১-২০১১] ১৮ জানুয়ারি আবার আসছেন জয়া বচ্চন [লিংক]
[১৩-০১-২০১১] যুদ্ধ ও প্রেমের গল্প – মঈন আবদুল্লাহ [লিংক]
[১৮-০১-২০১১] ভারতে জয়া বচ্চনের কণ্ঠে ‘মেহেরজান’ বন্দনা [লিংক]
[২১-০১-২০১১] আজ চলচ্চিত্রে শায়নার অভিষেক [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] মেহেরজান’ নিয়ে বিতর্ক [লিংক]
[২৯-০১-২০১১] পরিবেশনা জটিলতায় ‘মেহেরজান’ প্রদর্শনী বন্ধ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ নিয়ে পরিচালক বললেন [লিংক]
[০৮-০২-২০১১] ‘মেহেরজান’ নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা [লিংক]


দৈনিক সংবাদ




মোহর [লিংক]
মেহেরজান’র প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত [লিংক]
ভিক্টোর ব্যানার্জির আসার তারিখ পেছাল [লিংক]
বাংলাদেশে আসছেন জয়া বচ্চন ও ভিক্টর ব্যানার্জি [লিংক]
‘মেহেরজান’ ছবির প্রচারণা শুরু [লিংক]
মেহেরজান মুক্তি পাচ্ছে ২১ জানুয়ারি [লিংক]
‘মেহেরজান’-এ বিভ্রান্ত মুক্তিযুদ্ধ ঊনসত্তরে ফিরে আসার তোফায়েল আহমেদের আহ্বান – হারাধন গাঙ্গুলী [লিংক]


The Daily Star




[০৬-১১-২০১০] Meeting Jaya Bhaduri-Bachchan – Elita Karim [লিংক]
[১৪-০১-২০১১] Meherjaan – Love in a time of war – Karim Waheed [লিংক]
[১৮-০১-২০১১] Interview – Portrait of an artiste by Mannan Mashhur Zarif [লিংক]
[২০-০১-২০১১] “Quite a few of the Bollywood films I’ve done in recent years were utter trash” — Victor Banerjee [লিংক]
[২৩-০১-২০১১] Meherjaan’s women on the verge – Naeem Mohaiemen [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] Movie Review: Meherjaan – A Lot of Naive Love, Lot Less War – Karim Waheed [লিংক]
[২৮-০১-২০১১] Meherjaan– A Film Cluttered with Controversies – Tamanna Khan [লিংক]
[০২-০২-২০১১] Meherjaan Taken Out of Theatres [লিংক]
[০৩-০২-২০১১] Caption news – Samaj Samiksha Sangha forms a human chain in front of Chittagong Press Club (CPC) on Sunday demanding ban on film ‘Meherjaan.’Photo: STAR [লিংক]


অন্যান্য

[তারিখবিহীন] [বেঙ্গলিটাইমস কানাডা] রুবাইয়াতের খান বাহাদুর মানস – মাসকাওয়াথ আহসান [লিংক]
[১০-১১-২০১০] [অনলাইন মিডিয়া সার্ভিস] জয়া বচ্চনের মেহেরজান [লিংক]
[২৫-১২-২০১০] [বাংলাদেশনিউজ২৪/৭] মেহেরজান’ মুক্তি পাচ্ছে ২১ শে জানুয়ারি [লিংক]
[২৫-১২-২০১০] [আমারদেশ] ছাড়পত্র পেল জয়া বচ্চন অভিনীত মেহেরজান [লিংক]
[২৮-১২-২০১০] [দৈনিক জনকন্ঠ] মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে ‘মেহেরজান’-এর প্রচার শুরু [লিংক]
[১৬-০১-২০১১] [পিটিবি নিউজ] ‘মেহেরজান’এর প্রচারণার জন্য ঢাকায় আসছেন ভিক্টর ও জয়া বচ্চন [লিংক]
[১৬-০১-২০১১] [নিউজ বাংলা] “মেহেরজান” উন্মোচন করবে মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অধ্যায় [লিংক]
[১৯-০১-২০১১] [বাংলার চোখ] [১৯শে জানুয়ারি, ২০১১] যুদ্ধ ও ভালবাসা নিয়ে আসছে মেহেরজান [লিংক]
[১৯-০১-২০১১] [মানবজমিন] যুদ্ধ ও ভালবাসার গল্পের অসাধারণ ছবি মেহেরজান [লিংক]
[২০-০১-২০১১] [বাংলাদেশ প্রতিদিন] প্রিমিয়ার : মেহেরজান [লিংক]
[২১-০১-২০১১] [নিউজ বিএনএন] মুক্তি পাচ্ছে ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে চান শায়না [লিংক]
[২১-০১-২০১১] [বাংলাদেশ প্রতিদিন] রিভিউ ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[২১-০১-২০১১] [দি নিউ এইজ] Meherjaan creates a confusion of the history [লিংক]
[২২-০১-২০১১] [বাংলাদেশ প্রতিদিন] রিভিউ মেহেরজান [লিংক]
[২২-০১-২০১১] [জনকণ্ঠ] আ লা প ন ॥ ‘মেহেরজান’ চরিত্রটি আমাকে নাড়া দিয়েছে : সায়না আমিন [লিংক]
[২৯.০১.২০১১] [বার্তা২৪.কম] ‘মেহেরজান’কে প্রত্যাহার করে নিলেন পরিবেশক [লিংক]
[২৯.০১.২০১১] [বাংলাদেশ প্রতিদিন] সাক্ষাৎকার : রুবাইয়াত হোসেন – থিসিস থেকেই ‘মেহেরজান’র গল্প আবিষ্কার করি [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [দৈনিক যুগান্তর] যুদ্ধ ও ভালোবাসাহীন ছবি মেহেরজান – এফ আই দীপু [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] [মানবজমিন] যে কারণে বন্ধ হলো ‘মেহেরজান’-এর প্রদর্শনী [লিংক]
[০৪-০২-২০১১] [ইত্তেফাক] মেহেরজান – বিধার রিবেরু [লিংক]
[০৫-০২-২০১০] [বাংলানিউজ২৪কম] মেহেরজান: সাময়িক নয় স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিঃ ‘জার্নালিস্টদের’ সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন রুবাইয়াত [লিংক]
[২০-০২-২০১১] [ডয়েশে ভেলে] সমালোচনার মুখে মেহেরজান [লিংক]
[২৫-০২-২০১১] [ইন্ডিপেন্ডেন্ট] Talking Point [লিংক]
[২৫-০২-২০১১] [daily-sun] Meherjaan aftermath A tale of two youths – Shumon Jahan [লিংক]
[২৭-০২-২০১১] [ইত্তেফাক] নয়া মেহেরজান [লিংক]
[তারিখবিহীন] [নতুন প্রভাত] ছোট মেহেরজান [লিংক]

বিডিনিউজ২৪.কম



[তারিখবিহীন] মেহেরজানের নেপথ্য [লিংক]
[তারিখবিহীন] তারকা ও দর্শকের চোখে ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] ‘মেহেরজান’ নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন [লিংক]
[তারিখবিহীন] ‘মেহেরজান’ প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ করলো প্রযোজক [লিংক]
[৩০-০১-২০১১] Losing the plot with Meherjaan – Asif Saleh [লিংক]
[০৬-০২-২০১১] Meherjaan controversy: It’s not about the film, but about us and our history – Afsan Chowdhury [লিংক]
[১৭-০২-২০১১]আর্টস বৈঠক – মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ১) [লিংক]
[২৮-০২-২০১১] জাতীয়তাবাদী মনের অসুখ – গৌতম দাস [লিংক]
[০৭-০৩-২০১১] আর্টস বৈঠক – মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ২) [লিংক]
[১১-০৩-২০১১] আর্টস বৈঠক – মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৩) [লিংক]
[১৭-০৩-২০১১] ‘পাকিস্তান’, ‘মেহেরজান’ এবং বাংলা ব্লগস্ফেয়ার – ফাহাম আব্দুস সালাম [লিংক]
[২৩-০৩-২০১১] ‘আল্লারাখা’-র সত্য গল্প কিম্বা কাল্পনিক ‘মেহেরজান’ [লিংক]
[৩১-০৩-২০১১] মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৪) [লিংক]


লিংক সরবরাহ করে পোস্টটিকে সমৃদ্ধ করার জন্য গীতিআরা নাসরিন, রাতমজুর, নাইম হোসেইন, পাঠক, নুরুজ্জামান মানিক [লিংক], নজরুল ইসলাম [লিংক], অনিন্দ্য রহমান [লিংক], অনুস্বর [লিংক], আবরার আলভী [লিংক] -কে কৃতজ্ঞতা।



সর্বশেষ আপডেটঃ ১লা এপ্রিল, ২০১১। সময় ১১০০ (জিএমটি)।

ট্যাগ: মেহেরজান
Text

মেহেরজান প্রসঙ্গে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনিন্দ্য রহমানের দু’টি লেখার মিরর

কালের কণ্ঠের পার্মালিঙ্কের অবস্থা তথৈবচ। কাজে লাগলে খুঁজে বের করার জন্য লেখা দু’টি এখানে মিরর করে রাখলাম।

কালের কণ্ঠ উপসম্পাদকীয়

কালের যাত্রা – পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেহেরজান’ দেখতে গিয়েছিলাম গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। ‘মেহেরজান’ একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যার কাহিনী তৈরি হয়েছে এক বাঙালি রমণীর ডায়েরিকে উপজীব্য করে। ডায়েরির কাহিনী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এবং প্রেক্ষাপট তখনকার বাংলাদেশের একটি গ্রাম। সেই গ্রামে হিন্দু-মুসলমান আছে, শান্তি কমিটি আছে, সামন্তবাদী খাজা সাহেব আছে, মুক্তিবাহিনী আছে, বাম রাজনীতির গোপন নেতা ও কর্মী আছে, ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা স্বামী-স্ত্রী-যুবতী কন্যা আছে, পাকিস্তানি আর্মির হাতে ধর্ষিত সুবেশী ও সুশ্রী রমণী আছে। আর আছে পাকিস্তানি আর্মির বালুচ রেজিমেন্টের সৈনিক ওয়াসিম এবং সেই বালুচ সৈনিকের সঙ্গে বাঙালির অষ্টাদশী মেহেরজানের প্রেম আছে এবং প্রেমের গানও আছে। সবই আছে, কেবল মুক্তিযুদ্ধ নেই। মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা আছে। আছে মুক্তিযুদ্ধকে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে চিত্রায়ণ করার প্রয়াস। দেখতে গিয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র। দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা। এমনই প্রতারণা যে, মুক্তিযুদ্ধের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়ে পারে না। আমার বয়সী যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কমবেশি জড়িত ছিলেন, তাঁদের স্মৃতিতে একাত্তর, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, বাঙালিকে কাফের বিবেচনা করে শত্রুজ্ঞানে হত্যা করা ইত্যাদি এতই জ্বলজ্বল করে যে, চুলমাত্র বিকৃতি দেখতেই রক্ত গরম হয়ে ওঠে। মেহেরজান চলচ্চিত্রে একাত্তরের যে বাংলাদেশের কাহিনী দেখানো হয়েছে, তা সত্যের অপলাপ। কাল্পনিক ফিকশন মাত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলতে গিয়ে যা দেখানো হয়েছে তা ফোক ফ্যান্টাসিকেও হার মানায়। একেক সময় মনে হয়েছে চলচ্চিত্রটি কি পাকিস্তানি কেউ নির্মাণ করেছে! পরবর্তী সময়ে মনে হয়েছে চলচ্চিত্রের নির্মাতা একজন বাঙালি এবং যিনি বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের বাইরে আমার নিজের কোনো আত্মপরিচয় নেই।’ খটকা এখানেই লাগে। এমন একজনের হাতে কী করে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি সত্যবিবর্জিত হয়! জানি, চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণ সত্য না থাকলেও কিছু এসে যায় না। কিন্তু ‘মেহেরজান’ যদি কোনো কাল্পনিক যুদ্ধের কাহিনীনির্ভর হতো, তবে কিছুই এসে যেত না। যেভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ফিকশনধর্মী চলচ্চিত্র দেখি, মেহেরজানও সেভাবেই দেখতাম। কিন্তু ছবির কাহিনী যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। যার সঙ্গে আমার, আমাদের অনেকেরই অস্তিত্বের সম্পর্ক। যে বালুচ রেজিমেন্টকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছিল নির্বিচারে বাঙালি নিধনের জন্য, সেই বালুচ সেনার সঙ্গে কোনো বাঙালি যুবতীর গভীর প্রেম মেনে নিতে কষ্ট হয় বৈকি! এই বালুচরাই তো পঁচিশে মার্চের রাতে পিলখানায় ৮০০ বাঙালি ইপিআরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছিল। একাত্তরের ইতিহাস থেকে বালুচদের বাঙালি হত্যার আরো নজির উদ্ধৃত করা যাবে। চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র মেহের এ রকম এক বালুচের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খায় এবং পাকিস্তানি প্রেমিকের মহত্ত্বও বর্ণনা করে গর্বসহকারে। মেহেরের বাঙালি জা রাতের আঁধারে মেহেরকে অনুমতি দেয় প্রেমিক পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য। একাত্তরের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে অবাস্তব ফ্যান্টাসি বললেও বোধ হয় কম বলা হবে। বরং বলা যেতে পারে, চলচ্চিত্রের বাতাবরণে মুক্তিযুদ্ধের সত্য বিকৃতি। অষ্টাদশী যুবতী সারা দিন পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে গ্রামময় প্রেম করে বেড়ায়, অথচ গ্রামে কেউ তা জানতে পারে না! ঘরে ফিরে মেহের প্রেমের কথা লিখে রাখে তার ডায়েরিতে। অথচ ঘরে তার আপন খালাত বোন নীলা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে মেহেরের মতোই সদ্য নানাবাড়িতে আশ্রিত হয়েছে। একজন ধর্ষিত নারীর কাছাকাছি থেকেও অষ্টাদশী সুন্দরী মেহেরের মনে পাকিস্তানি সেনার প্রতি বিন্দুমাত্র ঘৃণা জন্মায় না। প্রেম এতই সর্বগ্রাসী! কী অদ্ভুত সহজীকরণের চেষ্টা! মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিত নারীর কষ্ট, অপমান, যন্ত্রণা, দুঃখকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানি সেনার প্রতি সহানুভূতি এবং বাঙালি মেহেরের সঙ্গে তার প্রেমকে যৌক্তিক ও মহত্ত্ব দেখিয়ে পরিচালক কি মুক্তিযুদ্ধের দর্শন ও চেতনাকে অপমান করেননি? এটা তো রীতিমতো ধৃষ্টতার শামিল।

চলচ্চিত্রে পাকিস্তানি সৈনিকটিকে দেখানো হয়েছে মানবিক, উদার, সহমর্মী এবং কোমল হৃদয়ের, যে কি না একজন বাঙালি হিন্দুকে নিজ হাতে পানি খাওয়ায়, ধর্ষণ না করে সুন্দরী মেহেরকে বাঁচায়। প্রশ্ন জাগে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ জাতীয় পাকিস্তানি সেনার অস্তিত্ব পরিচালক কোথায় পেলেন! তাও আবার বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে! চলচ্চিত্রের কাহিনীতে গ্রামে অবস্থিত মুক্তিবাহিনীর নেতা পাকিস্তানি সৈনিকটিকে গ্রেপ্তার বা হত্যা না করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এসব অদ্ভুত, ইতিহাসবহির্ভূত (নাকি ইতিহাস বিকৃত), অবাস্তব, মনগড়া কাহিনীর ‘মেহেরজান’ দেখে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে এটি একটি পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডার ছবি। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ ও ঘটা করে প্রদর্শনের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে। দেশে যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতাবিরোধীদের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে এ দুরভিসন্ধি কি আত্মঘাতী অপতৎপরতা নয়?

চলচ্চিত্রে মেহের ছাড়াও আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র আছে। একজন মেহেরের খালাত বোন নীলা, যার কথা আগেও উল্লেখ করেছি। পাকিস্তানি সেনাদলের হাতে ধর্ষিত নীলার সংলাপে বলা হয়েছে, সে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িত ছিল এবং পাকিস্তানি সেনাদলের ধর্ষণ তার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। তার মানে ছাত্র ইউনিয়নের প্রগতিশীল সহকর্মীদের হাতে সে আগেই লাঞ্ছিত হয়েছিল! এটা কি তৎকালীন প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা নয়! নীলা ছাড়া আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নারী সালমা, যে কি না সারাক্ষণই বিয়েপাগল। যার স্বপ্ন সেনাবাহিনীর কোনো সুদর্শন পুরুষের বাহুলগ্ন হওয়া। ‘মেহেরজান’ দেখতে দেখতে মনে হয়েছে পরিচালক ছবির তিনজন যুবতীকে যৌনতার প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন, যা মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ বাঙালি নারীর নিদারুণ ত্যাগের প্রতি চরম অপমান।

ছবিতে মেহেরজানের সামন্ত মাতামহ খাজা সাহেব পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন, ধর্ষিত খালাত বোন নীলার গর্ভে সন্তান জন্ম নেয়। তারপর গত চলি্লশ বছরে নানামুখী গবেষণা এবং ইতিহাস অন্বেষণে বিশ্ববাসী ইতিমধ্যে জেনেছে বর্বর পাকিস্তানিদের ইতিহাস সৃষ্টিকারী গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন আর ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ কাহিনী। গোটা জাতি আজ একাত্তরের সেই মানবতা হন্তারকদের বিচারের জন্য উন্মুখ।

তবু আজও অবিবাহিত বাঙালি মেহেরের হৃদয়ের আয়নায় প্রেমিক বালুচ সেনা ওয়াসিমের উজ্জ্বল মুখ। সত্যি সেলুকাস, বিচিত্র এই ‘মেহেরজান’ এবং তার পরিচালক। একটু খোঁজখবর নিলে হয়তো কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে।

লেখক : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

কালের কন্ঠ কালকুট

মেহেরজানআপন রক্তের কলঙ্কে নতজানু – অনিন্দ্য রহমান

মুক্তিযুদ্ধের চেনাজানা গল্প পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা এই প্রথম নয়। কেবল পাকিস্তানবাদী মানসিকতা থেকেই সেসব প্রচেষ্টা, তাও নয়। পাকিস্তানবাদীরা ছাড়াও, পশ্চিমা ক্রিটিক্যাল-তত্ত্বে আশ্রয় নেওয়া আরো একটি দল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘স্ববিরোধ, অস্বীকার ও তথ্যবিকৃতি’ দেখে আসছেন অনেক দিন ধরেই। তাঁরা মনে করেন, যেকোনো জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের মতো এটিতেও বিজয়ীর একতরফা গুণকীর্তন গাওয়া হয়েছে। এটি বুর্জোয়া, পুরুষতান্ত্রিক, সেই সঙ্গে মনোলিথিক বা একরোখা। তাত্ত্বিক বিচারে ‘গল্প উল্টে দেওয়া’-র এই প্রচেষ্টাটি বৈপ্লবিক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ ধরনের ‘প্রচলিত ইতিহাসের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ইতিহাসচর্চা’-র নামে এ যাবৎ আমরা যা দেখেছি, তার পুরোটাই অরুচিকর ও হিংস্র ইতিহাসবিকৃতি। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেহেরজান’ ছবি এর সাম্প্রতিক উদাহরণ।

‘মেহেরজান’ ছবিটি অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহে চলছে। মহাসমারোহে বিজ্ঞাপিত এই ছবিটি নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও প্রচুর লেখা এসেছে। তাই কাহিনী বলতে চাই না, হয়তো জেনে থাকবেন। ‘যুদ্ধ ও ভালোবাসার গল্প’ ট্যাগলাইনের এই ছবির কাঠামোটি, সন্দেহ করি, বিনা স্বীকৃতিতে ধার করা হয়েছে শর্মিলা বসু নামের এক হার্ভার্ডধারী অপগবেষকের একাধিক প্রবন্ধ থেকে। অহধঃড়সু ড়ভ ঠরড়ষবহপব : অহধষুংরং ড়ভ ঈরারষ ডধৎ রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ রহ_১৯৭১ যার একটি। তিনি প্রবন্ধে দাবি করেন, পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক বাঙালি রমণী ধর্ষণ ‘বিপুলভাবে অতিরঞ্জন’। তাঁর মূল বক্তব্য, ১৯৭১-এ বাংলাদেশে একটা ‘গৃহযুদ্ধ’ হয়েছিল। এতে ‘দুপক্ষে’র লোকই হিংসাত্মক আচরণ করেন। তাই বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের যাবতীয় বিরোধ মিটিয়ে ফেলা উচিত। কার্যত একটি নৃশংস গণহত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞ এড়িয়ে, তিনি মিলনের গান গাইতে চান। মনে হতে পারে, তিনি চান, বাংলাদেশের পতাকায় রক্তের কলঙ্ক দাগ ধুয়ে যাক। দুঃখজনক হচ্ছে, আমরা অনেকেই এমন আত্মবিস্মৃত হতে পারিনি। শহীদের করোটিস্তূপের ওপর পা রেখে মানবিকতাকে উচ্চতর করায় আমাদের আপত্তি রয়েছে। সুতরাং, হাউসফুল মেহেরজান ছবিতে যখন ওই একই গান শুনতে পাই, আমরা চরম গ্লানিতে ডুবে যাই।

পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর চেহারার ‘স্টিরিওটাইপে’র বিপরীতে মেহেরজান ছবিতে নায়ক হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে, পেলব, রোমান্টিক এবং ‘মানবতার খাতিরে দলত্যাগী’ বেলুচি সেনা ওয়াসিম খানকে। আমাদের স্মরণ আছে ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিনিধনের পাকিস্তানি অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর যার জড়িত ছিল ২২ বালুচ রেজিমেন্ট তার একটি মাত্র। পাকিস্তানি সাংবাদিক সিদ্দিক সালেকের বই ডরঃহবংং ঃড় ঝঁৎৎবহফবৎ-এ বর্ণিত রয়েছে ২৫ মার্চ এই ২২ বালুচের দায়িত্ব ছিল পিলখানায় ইপিআর সদর দপ্তর দখল নেওয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্রোহী’দের ঠাণ্ডা করা। সুতরাং বাঙালির বেলুচিপ্রেমের উৎস কী, তার গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর নেই। এভাবেই একধরনের সাধারণীকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ভান করে, মেহেরজান ছবিটি আরো অনেক ধরনের সাধারণীকরণকে উৎসাহ দিয়েছে। ছবি দেখার পরে একটি তালিকা করেছেন, বন্ধু ও ব্লগার অনন্ত। তালিকাটি এই লেখায় আলাদা করে তুলে দিলাম। প্রাসঙ্গিক, শর্মিলা বসুর প্রবন্ধটির প্রতিক্রিয়া লিখেছিলেন নয়নিকা মুখার্জি, মুনতাসীর মামুনসহ আরো কেউ। মুনতাসীর মামুনের প্রতিক্রিয়া প্রবন্ধের নাম ছিল ‘বাঙালি রমণীর পাকিস্তান সৈন্যপ্রীতি’। অন্তর্জালে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলোতে কেউ কেউ ‘মেহেরজান’ ছবিটিকেও মোটের ওপর ‘বাঙালি রমণীর পাকিস্তান সৈন্যপ্রীতি’ হিসেবেই পাঠ করেছেন। যদিও, বিজ্ঞাপনী প্রচারে ছবিটিকে ‘বীরাঙ্গনা’দের ওপর নির্মিত বলে বারবার বলা হয়েছে। পরিচালক অনুপ্রেরণা হিসেবে নীলিমা ইব্রাহিমের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বইটির নামও নিয়েছেন। আর এই বইটিতে মেহেরজান নামের একজনের বৃত্তান্তও পাওয়া যায়। কিন্তু ছবিটিতে মেহেরজান ‘বীরাঙ্গনা’ নন। তিনি ১৯৭১-এ অষ্টাদশী, প্রেমে পড়েছেন পাকিস্তানি সেনার। ‘যুদ্ধ’ তাদের প্রেমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বলে, সম্পর্কটির চিরবিচ্ছেদ ঘটে। কেউ কেউ বলছেন, মাত্র আঠারো বছরের গল্পের মেহেরজান কী আর ‘অত শত’ বুঝতেন?

কিন্তু ৭১ এ দুইলক্ষ লাঞ্ছিতার মাঝে ৮ থেকে ১৮’র বালিকা থেকে কিশোরীর সংখ্যা অনেক বেশি। পরিচালক সেই গল্পে না গিয়ে নিজের মতো করে যা উপস্থাপন করেছেন, তা তার পাকিস্তান প্রীতিকে প্রকাশের উত্তরাধুনিক ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।

মেহেরজান নিয়ে সিনেমা বানানোর আঁশটে ঘটনারই ব্যবচ্ছেদ খুব প্রয়োজন। নইলে, উত্তরাধুনিক খামখেয়ালিপনার কবলে পড়ে, ঠিক ওই লাখো বীরাঙ্গনার মতো, আপন রক্তের কলঙ্কে নতজানু হয়েই কাটিয়ে দিতে হবে আমাদের সবাইকে। কারণ, যারা ধর্ষণ করে ফিরে গেছে বা ধর্ষকের যে সহযোগীরা এই বাংলাতেই অট্টহাস্যে বিদ্যমান, তাদের কেশাগ্র আজও স্পর্শ করতে পারিনি আমরা।

অথচ পেছনে পরাজিত শক্তির ছানাপোনারা উত্তরাধুনিক চর্চায় রত হয়েছে। আমাদের রক্তাক্ত ইতিহাসে এসব প্রেম প্রীতির পেলব পরশ বুলানো বিকৃতি বন্ধে সোচ্চার হতে হবে।

হুংকার দিয়ে এদেরকে বলার সময় এসেছে,
‘মনে রাখবেন, রক্তের দাগ শুকায় নাই’।

অনলাইন লেখকসংঘ সচলায়তন.কমের সদস্যদের মন্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত

ট্যাগ: মেহেরজান
Text

বিনির্মাণের চাতুরি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুনপাঠ

মেহেরজান বিষয়ে পানি অনেকদুর গড়িয়েছে। মেহেরজানের পরিবেশক আশির্বাদ চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে ছবিটি প্রত্যাহার করেছে [১]। এর মধ্য দিয়ে মেহেরজান বিতর্ক দ্বিতীয় পর্যায়ে গিয়ে পড়লো। পর্যায় উত্তরণের সাথে সাথে মেহেরজান সমর্থকদের বিতর্কের বিষয়বস্তু ছবির বিষয়বস্তু ছেড়ে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও নানারকম ইংরেজী শব্দমালাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে বলে ধারণা হয়। এই রীতিতে আজকে প্রথম আলো পত্রিকায় ফাহমিদুল হকের একটা লেখা [২] ছাপা হয়েছে। অনর্থক ইংরেজী শব্দাক্রান্ত সেই লেখার ব্যবচ্ছেদই হবে এখানে। সাথে উপরি হিসেবে থাকবে বিডিনিউজ২৪.কমে প্রকাশিত ব্লগার আসিফ সালেহ-এর লেখার ব্যবচ্ছেদ।

১.

ফাহমিদুল হকের লেখার শিরোনাম বিনির্মানের বিপত্তি ও জাতীয়বাদী আবেগ। শিরোনাম ভালো হয়েছে বলতে হয়। অন্তত মূল অংশে যা লেখা হয়েছে সেটাকে শিরোনাম প্রতিনিধিত্ব করে এই অর্থে।

যাঁরা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, তাঁদের আবেগের পরিমাপে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্ম সৃজনশীল অভিপ্রকাশে আক্রান্ত হবে না। বরং মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে চাইবে নতুন প্রজন্ম। আর এই দেখার ক্ষেত্রে তারা সমসাময়িক জাতীয় ও বৈশ্বিক জীবনদর্শন ও রাজনীতি, বৈশ্বিক মানবতাবাদ ইত্যাদি বহিঃস্থ ঘটনাক্রম-আদর্শ দ্বারা অবলীলায় তাড়িত হবে। এটা শৈল্পিক দায় ও উপায়।

প্রথমে বিনির্মাণ প্রসঙ্গ। বিনির্মাণ [৩] প্রসঙ্গে ফাহমিদুলের মূল বক্তব্য এরকম যে বাংলাদেশে ৭১ ভিত্তিক আলোচনা সব এক ধরণের গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ (মোটা দাগে চলা বক্তব্য)-এ আগায়। তো এই মোটা দাগে চলা বক্তব্যের ধাঁচ থেকে বাইরে বেরিয়ে নতুন প্রজন্ম পূর্বসূরিদের আবেগের পরিমাপে … সৃজনশীল অভিপ্রকাশে আক্রান্ত হবে না।” এই আবেগ বিবর্জিত পন্থাকে ফাহমিদুল বলছেন শৈল্পিক দায় ও উপায়। নতুন প্রজন্ম এই দায় মেটাতে তাই মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিভিন্ন দিক বিভিন্নভাবে বয়ান নির্মানের উপায় করবে। পূর্বসুরিদের অতিরিক্ত হিসেবে নতুন প্রজন্ম সমসাময়িক জাতীয় ও বৈশ্বিক জীবনদর্শন ও রাজনীতি, বৈশ্বিক মানবতাবাদ ইত্যাদি বহিঃস্থ ঘটনাক্রম-আদর্শ দ্বারা অবলীলায় তাড়িত হয়ে তাদের কাজ করবে। ধারণা করা যায় রুবাইয়াত হোসেনের মেহেরজানকে ফাহমিদুল এরকম একটা দায় মেটানোর উপায় হিসেবে দেখছেন। আগ্রহউদ্দীপক পর্যবেক্ষন বটে।

সাদা চোখে এই নির্দোষ কথামালায় কোন দোষ বের করা শক্ত। বাজারে মোটা দাগ আঁকার পেন্সিলের বাইরে চিকন আঁকার পেন্সিলও থাকা চাই। তো লেখায় সমস্যাটা শুরু হয় সিনেমায় রাজাকার শ্রেনীর উপস্থাপন নিয়ে বিশ্লেষণে গিয়ে। সেখানে ফা.হ. সঠিকভাবে শনাক্ত করেছেন রাজাকারের চরিত্রায়নে এক ধরনের স্টেরিওটাইপিং রয়েছে এবং সেটার পেছনে কারণও রয়েছে। কারণটুকু চিহ্নিত করে ফা.হ. এই স্টেরিওটাইপিঙের নির্মাতাদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন,

এসব নির্মাতা-স্রষ্টারা মূলত চিন্তাভাবনায় আধুনিক ও বামঘেঁষা হলেও ষাটের দশকের বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার মধ্য দিয়েই পশ্চিমা আধুনিকতা ও বাম ভাবনার স্থানিকীকরণ ঘটে। ফলে বাঙালি মুসলমানের বাঙালিত্বের অংশটুকুই তারা একমাত্র আত্মপরিচয় বলে ভাবতে চায়। এ জন্য মুসলমানিত্বের অংশটুকুকে তারা বাতিল করতে চায়। ইসলামের অনুসারীরা তাদের কাছে ‘অপর’। ফলে চলচ্চিত্রে তাদের অপরায়ণের শিকার হয় বাঙালি-মুসলমান জাতিসত্তার ভেতরকার মুসলমানিত্ব অংশটি।

সমস্যাটার শুরু ঠিক এই জায়গাটায়। শিরোনামের জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গটাও এখানে আসে। বাঙ্গালির জাতীয়তাবাদের চেহারাটা কী হবে সেটা অনেক পুরনো তর্কের বিষয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলা ভাষা, সঙ্গীত, সাহিত্যের মুসলমানিকরণের চেষ্টা অনেক হয়েছে। প্রচার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ নিষিদ্ধকরণ, ভাষার অক্ষর বদলে আরবি হরফ আরোপের চেষ্টা, বাংলাকে যথেষ্ট মুসলমানি ভাষা না মনে করা – এসবই আসলে পাকিস্তানিদের বাঙ্গালি সংস্কৃতির ওপর মুসলামানি প্রলেপ জড়ানোর অপচেষ্টা হিসেবেই দেখা দিয়েছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম হুট করে ‘৭১ সালে নাজিল হয়নি। ‘৪৮ থেকে ‘৭১ – এই পুরোটা সময়ের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের প্রতিবাদ হিসেবেই এর আবির্ভাব হয়। বাংলাদেশের এই আবির্ভাব এক অর্থে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটা নির্দিষ্ট ধর্মের মোড়কে সংস্কৃতিকে আকার দেওয়ার জবরদস্তি চেষ্টার অস্বীকার। সুতরাং বাঙালি ‘প্রথমত বাঙালি না মুসলমান’ এই প্রশ্নের ফয়সালা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মুহুর্ত থেকেই হয়ে গেছে। এগুলো খুব সহজ ও বহুবার আওড়ানো কথা। তবুও এই সহজ কথাগুলোই বারবার আওড়াতে হয়। কারণ, এই ধর্ম বিযুক্ত জাতীয়তাবাদের ধারণা সবার হজম হয় না। হজম হয় না বলে তাদের মুখে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি হিন্দু ইত্যাদি ধর্মীয় বিভাজনমূলক শব্দ বারবার শোনা যায়। সেইসাতে এক চিমটে লবনের মতো আমেরিকা, নাইন ইলেভেন, তালেবান ইত্যাদির মিশ্রন। শুধু বাঙালি শব্দটা এদের কারো মুখে রোচে না। ‘৭১-এর যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যে বাঙালি শুধু বাঙালিই হতে চেয়েছে এই ধারণাকে ফা.হ.এর মনে হয় ‘মুসলমানিত্বের বাতিলীকরণ’। জাতীয়তাবাদ নতুন করে নির্দিষ্ট করার চেষ্টাকারিদের সহবাদক হয়ে ফাহমিদুল হক আশা করি নিজের অবস্থানটা আরো একটু পরিস্কার করবেন অচিরেই। আমরা সবাইকেই চিনতে চাই ভালো করে।

ফা.হ. অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেছেন ইসলামের অনুসারিরা তাদের কাছে অপর। এই বাক্যটা পড়ে মনে হয় ফা.হ. নির্মাতা-স্রষ্টারা বাঙালি আর ইসলামের অনুসারিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্ঞান করছেন এমনটা মনে করেন। নির্মাতা স্রষ্টারা পাকিস্তানিদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বর্ননা (লেখকের ভাষায় ন্যারেটিভ) আর কীভাবে দিতে পারতো সেই প্রশ্নটা আমি ফা.হ.-কে করতে চাই।

আগের ডিকনস্ট্রাকশনগুলোয় কিন্তু আজকের মতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ফা.হ.-এর ভাষায় মেহেরজান সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিনির্মান হয়েছে। তার সাথে এই বিষয়ে একমত হওয়া চলে যে এই বিনির্মান আগেও হয়েছে এবং মেহেরজানের মতো ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া সেগুলোতে দেখা যায়নি। এখানে ফা.হ. আরো একটু তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখাতে পারতেন বিষয়টা। বিহারির সাহায্য করার ঘটনা আর সিনেমায় প্রেমিক পাকিসেনার মধ্যকার উপস্থাপনগত পার্থক্য রয়েছে। বিনির্মান প্রচেষ্টা ঠিক এই জায়গাতে গিয়ে ঠেকলো কেন সেই প্রশ্ন আসতে পারে স্বাভাবিকভাবেই। বীরাঙ্গনাদের গল্প (লেখকের ভাষায় ন্যারেটিভ) বলতে গিয়ে আনুপাতিকহারে অত্যন্ত উচ্চহারে হিন্দু নারীদের ধর্ষিত হবার গল্পটা আসে না কেন? নাকি এই ন্যারেটিভ দেখাতে গেলে বাঙালির বৈশ্বিক মানবতাবাদি মুসলমানি চিত্ত আঘাতপ্রাপ্ত হয়? বৈশ্বিক মানবতাবোধে উজ্জীবিত হয়ে পাকিপ্রেমের ফ্যান্টাসি দিয়ে আসলে কিসের দায় মেটে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি, ফরহাদ মজহার গ্রুপের জামাতি কানেকশন ব্যাকড্রপে নিয়ে এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যাটা কী হয়?

a

ডিকনস্ট্রাকশন?

ইতিহাস বিনির্মান প্রচেষ্টা অন্য দেশগুলো থেকে আমাদের দেশে একটু আলাদা দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে। ৪০বছরে এতোবার নতুন করে ইতিহাস লেখার চেষ্টা মনে হয় ফা.হ. অভিজ্ঞতার বাইরের ব্যাপার নয়। এদেশে একটা পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা জারি আছে কীভাবে তারা তাদের কৃতকর্ম অস্বীকার বা নিদেনপক্ষে হালকা করতে পারে। মেহেরজানের স্কৃপ্টরাইটার, নামকরণ এগুলো বিষয়ে খোঁজ করলে ঐ রিভিশনিস্টদের সাথে তাদের সম্পর্ক বের করা খুব সহজেই সম্ভব। এইসব আসলে শেষমেষ একটা বহুদিন ধরে চলতে থাকা অপরাজনীতির অংশ হিসেবে আকার পায়। এই প্রচেষ্টার কথা মাথায় নিয়ে যখন মেহেরজানে পাকিমাহাত্ন দেখতে হয় তখন ভাবা দরকার পড়ে পরিচালক, স্কৃপ্ট রাইটার আসলে ডিকনস্ট্রাকশন করতে চেয়েছেন নাকি রিকনস্ট্রাকশন করতে চেয়েছেন।

b

রিকনস্ট্রাকশন/আদার ন্যারেটিভ

এই রিকনস্ট্রাকশন করতে পারলে একটা পক্ষের রাজনৈতিক সুবিধে হয় খুব। বাঙালি জাতীয়তাবাদ অপেক্ষা বাঙালি মুসলমান জাতীয়তাবাদ হয়তো তাদের জন্য আরোও একটুখানি বৈশ্বিক। বাঙালি জাতিসত্তার ওপর এই চক্রের আঘাত নতুন কিছু না। তাদের হয়ে কিছু সাঙ্গোপাঙ্গো এইটা সেইটা রচনা করেন, সিনেমা নাটক বানান। এরপর ফাহমিদুল হকের মতো বুদ্ধিজীবিরা আসেন “শিল্পের দায় ও উপায়”-এর দোহাইয়ে নেমে পড়েন। প্রতিক্রিয়ার আঁচ টের পেয়ে তিনি বলেন,

অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এখনো পুরোনো প্রজন্মের কাছে তরতাজা। ফলে এই ধরনের ডিকনস্ট্রাকশন মেহেরজান-এর জন্য খানিক আগাম হয়ে গেল।

তো আমার প্রশ্ন, কবে বা কত বছর বিগত হলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে মেহেরজানের মতো ডিকনস্ট্রাকশন হালাল হয়ে দেখা দেবে? নতুন প্রজন্মের স্মৃতি বিস্মৃতির বিষয়ে উনি এতোটা আত্মবিশ্বাসী কী করে?

২.

ফাহমিদুল হকের লেখাটার মতো আরো একটা লেখা পাই আজকে বিডিনিউজ২৪ এর ইংরেজি ওপিনিয়ন সেকশনে [৪]। লেখাটি লিখেছেন দৃষ্টিপাত ব্লগের আসিফ সালেহ [৫]। আসিফ সালেহ মেহেরজান বিষয়ে প্রথম মন্তব্য করেন আনহার্ড ভয়েস ব্লগে নাইম মোহাইমেনের ব্লগে [৬]। নাইম মোহাইমেনের ঐ লেখাটি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারেও [৭] ছাপা হয়েছে। নাইম মোহাইমেনের সাথে সুস্থ্য আলাপচারিতা চালানো মুশকিল। এই লোক মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ [৮] বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলা যায় তখনি যখন কেউ স্বাধীনতার ঘোষণাকে অগ্রাহ্য/অস্বীকার করে। [আরো একটা রিকনস্ট্রাকশন প্রচেষ্টা?] এই জাতীয় লোকেরা যখন কিছু নিয়ে লেখে তখন দেখতে হয় আসলে সে যেসব নিয়ে লিখছে সেটার পিছনে মোটিভ কী। মেহেরজান বিষয়ে আমার আগ্রহ এই কারণে প্রথম জাগ্রত হয়।

আসিফ সালেহ লেখার উপসংহার টেনেছেন মেহেরজান সিনেমার ব্যান (অানুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক) বিষয়ে প্রতিবাদ তুলে ধরার আহবান জানিয়ে। তবে এর আগে তিনি মেহেরজানের পক্ষ বিপক্ষ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো আসলে ভ্রান্তিমূলক ও পরস্পরবিরোধী।

লেখার শুরুতে আসিফ মেহেরজান চলচ্চিত্রের হিংসাত্মক/ক্রুর সমালোচনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন মাস ৬ আগে তিনি যখন প্রথম এই চলচ্চিত্রটি দেখার সুযোগ পান তখন তিনি এর কাহিনীতে সমস্যা দেখলেও মনে করেছেন এটা –

….. the beginning of a healthy exchange. I thought it was the beginning of the clash of storytelling between two generations — one that was too emotionally close to the War to accept any other narrative of the story and the one for whom the research of the War was done through interviews and books.

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সমস্যাপূর্ন কাহিনী কীভাবে স্বাস্থ্যকর বিনিময়ের সূচনা করে এটা আমার বোঝার বাইরের জিনিস। অস্বাস্থ্যকর কিছু বিনিময় ঘটলেই মনে হয় বিষয়টা স্বাভাবিক হতে পারতো। আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে সংঘাত এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনের সংঘাত নয়। দুই জেনারেশনেই দু’টো সুস্পষ্ট পক্ষ রয়েছে যারা নিজেদের প্রতিপক্ষ বাছাই করতে জেনারেশনে আটকে থাকেন না। আসিফ সালেহর এই বর্তমান জেনারেশনের চিত্রায়ন তাই একটা চাপান উতর ছাড়া কিছুই নয়। আসিফ সালেহ বাংলা পড়তে জানলে আহবান জানাবো বাংলা ব্লগগুলোতে একটু নজর বুলিয়ে নতুন জেনারেশন সম্পর্কে একটা ধারণা নিতে।

বাংলা ব্লগে যেরকম কিছু ম্যাৎকার শোনা যায় সবাইকেই কথা বলতে দিতে হবে ইত্যাদি, আসিফ সালেহও সেরকমই একটা কিছু বলেন তার লেখাতে। তিনি অভিযোগ করেন বাংলাদেশে বিতর্কগুলো খুব দ্রুত ব্যক্তিগত চৌহদ্দিতে গিয়ে পড়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন,

Why? Why such personalisation and vilification when there is plenty to criticise on the substance of the film?

জনাব সালেহ, সবকিছুই গোটা একটা রাজনীতির অংশ। একটা বাদ দিয়ে আরেকটা করতে হবে এমন নয়। সবকিছু খুড়ে দেখেই এখন পরিস্কার মেহেরজান ছবিটার সমস্যাপূর্ন কাহিনীটার সূত্র এবং সেই সূত্রের রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কীভাবে সাংঘর্ষিক। লেখার শুরুতে যে “big picture”-এর কথা বললেন সেটার থেকে এগুলো বাইরে থাকবে কেন? মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত যাবতীয় বর্ননা (narrative) আপনি চেখে দেখতে প্রস্তুত হলেও সমালোচকদের রাস্তাটা “without questioning each others’ agenda” একে দিতে আপনি এতো আগ্রহী কেন? অবস্থানটা একটু পরস্পরবিরোধী হয়ে গেল না? এ্যাজেন্ডা ঢাকা দিতে আপনার এই অতি আগ্রহ কেন জনাব?

c

[মেহেরজান স্কৃপ্টরাইটার এবাদুর রহমানের বইয়ের কিয়দংশ। ছবি কৃতজ্ঞতা - নজরুল ইসলাম ]

আসিফ সালেহ এক জায়গায় বলেন বিকল্প বর্ননার জায়গা দিতে হবে। অন্যদিকে বলেন মত প্রকাশের দায়িত্বশীল সীমার কথা। এই সীমাটা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলাপে ঠিক কোথায় নির্ধারণ করতে হবে সেটা বিষয়ে কোন ধারণা উনার লেখায় পাওয়া যায় না। জনগণকেই নাকি সবকিছু বেছে নেবার সুযোগ দিতে হবে। গত কয়েকদিনের বাংলা ব্লগগুলোতে চোখ বোলালে উনি জনগণ মেহেরজানকে কীভাবে নিয়েছে সেটার ধারণা পাবার কথা।

[justify]The tragedy is not that film’s life was cut short. Real tragedy is that the intense reaction and subsequent exchanges could have provoked the younger generation to search for the real history of the War and its relevance. Now it’s a missed opportunity.[/justify]

পুরোই হাস্যকর হাহুতাশের কথা। নতুন প্রজন্মকে বাঙালিকে মুসলমান তকমায় জড়ানোর চেষ্টা কারিদের “শিল্প” থেকে ইতিহাসের “আসল ইতিহাস” শিখতে হবে! এবং মেহেরজান নিষিদ্ধ হওয়াতে সেই জিনিস আওয়ামদের হাতছাড়া হলো!

একাধিকবার আসিফ সালেহ জনগণকে নিজের পছন্দ বাছাই করতে দিতে বলছেন। আবার সেইসাথে বলছেন মেহেরজান নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে পড়তে। প্রশ্ন হলো জনগণ যদি মেহেরজান প্রত্যাখ্যান করে তাহলে কি তিনি এই ছবি ব্যান করতে রাস্তায় নামবেন?

সূত্র

১. ‘মেহেরজান’ ছবির প্রদর্শনী বন্ধ! – প্রথম আলো, ৩০শে জানুয়ারি, ২০১১ [লিংক]

২. বিনির্মানের বিপত্তি ও জাতীয়বাদী আবেগ – ফাহমিদুল হক, প্রথম আলো, ৩০শে জানুয়ারি, ২০১১ [লিংক]

৩. Deconstruction উইকিআর্টিকেল [লিংক]

৪. Losing the plot with Meherjaan – Asif Saleh, January 30, 2011, bdnews24.com [লিংক]

৫. Asif Saleh – ব্লগ লিংক

৬. Meherjaan’s Women on the Verge – Naeem Mohaimeen – January 23rd, 2011 [লিংক]

৭. Meherjaan’s Women on the Verge – Naeem Mohaiemen – January 23rd, 2011 [লিংক]

৮. Accelerated Media and the 1971 Civil War in Bangladesh – Naeem Mohaiemen, January 26, 2008 Economic & Political Weekly, 36-40. [লিংক]

নোট

১. সম্পর্কিত আরো একটা লেখার লিংক
শেষ রজনী সিনেপ্লেক্সে- ১ – শুভাশীষ দাশ
২. পোস্টটি একই সাথে সচলায়তনে প্রকাশিত [লিংক]

ট্যাগ: মেহেরজান