Photo
নির্বোধের দল পত্রিকায় পাতায় আইটি ডেস্ক, অনলাইন ডেস্ক ইত্যাদি দখল করার পর নতুন দোকান খুলে বসেছে লাইফস্টাইল পাতা/ডেস্ক নামে। দুনিয়ার গু জড়ো করে সেগুলো পরিবেশন করাই এদের দায়িত্ব। আগে একবার এন্তেনজা পেপারের অনলাইন শাখা বাংলানিউজ২৪এর ইন্ডিয়ান পত্রিকা থেকে কপি পেস্টের কথা লিখেছিলাম। আজকের পোস্ট ঐ একই নিউজ সাইটে লাইফস্টাইল নিউজে ইংরেজী শব্দের আধিক্য নিয়ে। এই লেখা বাংলা অক্ষরে লেখা ইংরেজি খবর বললে ভুল হবে না।

নির্বোধের দল পত্রিকায় পাতায় আইটি ডেস্ক, অনলাইন ডেস্ক ইত্যাদি দখল করার পর নতুন দোকান খুলে বসেছে লাইফস্টাইল পাতা/ডেস্ক নামে। দুনিয়ার গু জড়ো করে সেগুলো পরিবেশন করাই এদের দায়িত্ব। আগে একবার এন্তেনজা পেপারের অনলাইন শাখা বাংলানিউজ২৪এর ইন্ডিয়ান পত্রিকা থেকে কপি পেস্টের কথা লিখেছিলাম। আজকের পোস্ট ঐ একই নিউজ সাইটে লাইফস্টাইল নিউজে ইংরেজী শব্দের আধিক্য নিয়ে। এই লেখা বাংলা অক্ষরে লেখা ইংরেজি খবর বললে ভুল হবে না।

ট্যাগ: সংবাদপত্র
Link
ঢাকার বয়স হাজার বছর
নতুন করে লিখতে হতে পারে ইতিহাস
কালো পাথরের একটি শিলালিপি ১৯২৫ সাল থেকে রয়েছে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে। এতদিন জানা ছিল, এটি ঢাকার অদূরবর্তী কোনো এক মান্ড্রা মসজিদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু জানা ছিল না, কোথায় এই মান্ড্রা মসজিদ।
রাজীব নূর

কালো পাথরের একটি শিলালিপি ১৯২৫ সাল থেকে রয়েছে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে। এতদিন জানা ছিল, এটি ঢাকার অদূরবর্তী কোনো এক মান্ড্রা মসজিদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু জানা ছিল না, কোথায় এই মান্ড্রা মসজিদ। অবশেষে ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির কর্মীরা খুঁজে পেয়েছেন মসজিদটি। তাদের দাবি, এটি মান্ড্রা নয়, মান্ডা মসজিদ। ঢাকার শিলালিপি ও প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির অনুসন্ধান ও গবেষণার ফলাফল হয়তো নতুন করে ঢাকার ইতিহাস লিখতে বাধ্য করবে গবেষকদের। আমাদের এতদিনের জানা ইতিহাস বলছে, ঢাকার বয়স চারশ’ বছর। কিন্তু আজ থেকে আটাশি বছর আগে মান্ডা মসজিদ থেকে সংগ্রহ করা শিলালিপির পাঠ থেকে জানা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২ জানুয়ারি। মসজিদ প্রতিষ্ঠার ওই সময়টিকেই যদি ঢাকার বয়স নির্ধারণের মানদণ্ড ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও ঢাকার বয়স হবে ৫৮১ বছর। তবে ওই শিলালিপির অপর পিঠের বিষ্ণুমূর্তি বলছে অন্যকথা। বিষ্ণুমূর্তিটি যদি এখানকার হয়ে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে মান্ডা এলাকায় সেন আমলে নগরের পত্তন হয়েছিল। গবেষক ও পণ্ডিতদের মতে, বাংলায় তুর্কি অভিযানের পর আর কালো পাথরের মূর্তি তৈরি হয়নি। বারো শতকের শুরুতে বাংলায় ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির অভিযানের পর হিন্দুরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মূর্তি পুকুরের পানিতে অথবা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন।

ঢাকার বয়স হাজার বছর

ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির মতে, ঢাকার প্রাচীন ইতিহাস বিশেষত গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের উপাদানগুলো গবেষণায় উপেক্ষার শিকার হয়েছে। প্রাচীন ইতিহাসের খোঁজে সারাদেশে প্রত্নতাত্তি্বক খননকাজ পরিচালিত হলেও ঢাকা শহরে খননকাজ পরিচালনা থেকে বিরত আছেন প্রত্নতাত্তি্বকরা। লালবাগ দুর্গ ছাড়া আর কোথাও খননের কোনো উদ্যোগ নেই প্রত্নতত্ত্ব্ব অধিদপ্তরেরও। ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সমকালকে বলেন, মান্ড্রা মসজিদটি কোথায়, এ অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে বারবার শিলালিপিটি দেখেছেন। এই শিলালিপির কথা পড়েছেন ড. এ এইচ দানি ও ড. আবদুল করিমের বইয়ে। ঢাকার শিলালিপি নিয়ে কাজ শুরু করার পর একদিন ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির তরুণ সরকার এসে জানালেন যে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার ধারণা হয়েছে, মান্ড্রা আসলে হবে মান্ডা। আলোচ্য মসজিদটির অবস্থান মুগদা থানায়, মান্ডা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে, ১১১ জোড়া মসজিদ রোডে, উত্তর মান্ডার বড়পাড়ায়। স্থানীয়ভাবে মসজিদটি নান্দু বেপারী মসজিদ নামে পরিচিত।

তরুণ সরকার সমকালকে জানান, অনুসন্ধানে নেমে তারা জানতে পারলেন, মান্ডায় বেশ কয়েকটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বড়পাড়ায় নান্দু বেপারী মসজিদ ও মোল্লাবাড়ি মসজিদ, মধ্যপাড়ায় জমিদারবাড়ি মসজিদ, টাকিপাড়ায় ছাতা মসজিদ অন্যতম। বড়পাড়ার নান্দু বেপারী মসজিদ ও মোল্লাবাড়ি মসজিদ দুটির অবস্থান পাশাপাশি। স্থানীয়ভাবে মসজিদ দুটি জোড়া মসজিদ নামেও পরিচিত। অধুনা বিলুপ্তপ্রায় দোলাই নদীর তীরে মান্ডার অবস্থান। সুলতানি ও মোগল আমলে দোলাই নদী ছিল ঢাকার অন্যতম প্রধান নৌপথ। মান্ডার দক্ষিণ দিকে যাত্রাবাড়ী ও কাজীরবাগ, পশ্চিম দিকে মানিকনগর, মুগদা, মদিনাবাগ ও আহমদবাগ, পশ্চিম-উত্তর দিকে সবুজবাগ, রাজারবাগ ও কদমতলী, উত্তর দিকে মাদারটেক, দক্ষিণগাঁও।

স্থানীয়দের মতে, মান্ডার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ নান্দু বেপারীর মসজিদ। ওই এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রমজুল হকের সঙ্গে আলাপে কমিটির কর্মীরা জানতে পারেন, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাবেক সভাপতি ড. হাবিবা খাতুন বেশ কয়েকবার এ মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। পরে তারা অধ্যাপক হাবিবা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি তাদের জানান, তার ডক্টরাল থিসিসের জন্য মসজিদটি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। তখন মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন, এটি সুলতানি আমলের মসজিদ।

সমকালের পক্ষ থেকে ড. হাবিবা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে প্রথমবার মান্ডা মসজিদ পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। ততদিনে মসজিদটির গম্বুজ ছিল না। গম্বুজ ভেঙে পড়লেও তিনি মসজিদে সুলতানি আমলের আদি কাঠামোর অস্তিত্ব দেখতে পেয়েছিলেন। হাবিবা খাতুন তার ডক্টরাল থিসিসেও মান্ডা মসজিদকে সুলতানি আমলের এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ঢাকার চারশ’ বছর উদযাপনকে ঘিরে এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ঢাকা বিষয়ক ১৯টি বই প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ বইগুলোর প্রথম খণ্ড ‘রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর ও উত্তরকাল’ বইয়ে হাবিবা খাতুন লিখেছিলেন, ‘প্রাক মুঘল ঢাকা :লিপিতাত্তি্বক সাক্ষ্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ। এটি ওই বইয়ের প্রথম প্রবন্ধ। ওই প্রবন্ধে হাবিবা খাতুন প্রাচীন ঢাকার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, চৌদ্দ শতকে ঢাকায় নগরায়ণ ঘটে এবং পনেরো শতকে এটি নগরী হিসেবে গড়ে ওঠে। তবে হাবিবা খাতুন নিজেই এখন মনে করেন, ঢাকা শহরের বয়স হাজারেরও বেশি। রাজধানী ঢাকা নিয়ে লেখা ওই বইটির সংশোধন করার পক্ষেও মত দেন তিনি।অধ্যাপক রমজুল হক সমকালকে বলেন, তার পূর্বপুরুষ পরিত্যক্ত মান্ডা মসজিদের সনি্নকটে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি আরও জানান, মসজিদের আদি কাঠামো ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সংস্কার হলেও তার স্মৃতিতে মসজিদের আদি কাঠামোটি রয়ে গেছে। তিনি ছোটবেলায় দেখেছেন, এটি এক গম্বুজওয়ালা একটি মসজিদ।

জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত শিলালিপির বিবরণে যে মান্ড্রা মসজিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মান্ডা মসজিদ কি-না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজ। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমি শুনেছি যে যাকারিয়া স্যাররা (আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া) দাবি করেছেন, মান্ডা মসজিদই আসলে মান্ড্রা মসজিদ। আমি বলছি না যে এটি সেই মসজিদ নয়, তবে নিঃসংশয় হতে পারিনি।’ ঢাকার আশপাশে তিনিও দীর্ঘদিন ধরে মান্ড্রার অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিক্রমপুরে মান্দ্রা বলে একটি গ্রাম খুঁজে পেয়েছেন।

সমকালের পক্ষে বিক্রমপুরে অনুসন্ধান করে টঙ্গিবাড়ী এলাকায় মান্দ্রা নামে একটি গ্রামের সন্ধান পাওয়া গেলেও সেখানে প্রাচীন কোনো মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।মান্ডা মসজিদ সম্পর্কে আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সমকালকে বলেন, ‘৫০ বছর ধরে ঢাকার আশপাশে আমি তন্নতন্ন করে মান্ড্রা মসজিদ খুঁজে ফিরেছি। মসজিদটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমার আরও একটি অনুসন্ধানের শেষ হয়েছে এবং উন্মোচিত হয়েছে ঢাকার ইতিহাসের নতুন এক দিগন্ত।’ মান্ডা মসজিদের শিলালিপি এবং এর উল্টো পিঠের বিষ্ণুমূর্তি ঢাকা শহরের প্রাচীনতা নিশ্চিত করে। এই শিলালিপি ও বিষ্ণুমূর্তি প্রমাণ দেয়, ৪০০ বছর আগে মোগলরা যে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন, সেখানে হাজার বছর আগেও একটি শহর ছিল। তার মতে, মোগল-পূর্ববর্তী আমলে ঢাকার পূর্বদিকে দোলাই নদীর তীরবর্তী মান্ডা-খিলগাঁও ইত্যাদি অঞ্চলেও সেন ও সুলতানি আমলের শহরটি বিস্তৃত ছিল। কিন্তু মোগল আমলে দোলাই নদীর উত্তরাঞ্চলে নগরায়ণ ব্যাহত হয়।

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া আরও বলেন, কেবল মান্ডার এই শিলালিপিই নয়, সেন ও পাল আমলে যে ঢাকা শহর ছিল তার ইঙ্গিত আছে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদ ও লালবাগের খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদের শিলালিপিতেও। এ দুটি মসজিদের শিলালিপিতে কুফর ধ্বংসের কথা বলা আছে। মন্দিরের স্থলে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলে শিলালিপিতে কুফর ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা হয়।চকবাজারের চুড়িহাট্টায় শাহ শুজার আমলে চৌচালাবিশিষ্ট মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, মন্দিরের স্থলে এখানে মসজিদ করা হয়েছিল এবং শিলালিপিতে কুফর ধ্বংসের ইঙ্গিতও রয়েছে। পরে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে মসজিদের আঙিনা খননের সময় মাটির নিচে পাওয়া যায় কালো পাথরের বাসুদেব মূর্তি। বাসুদেবের এই মূর্তি বর্তমানে কলকাতা জাদুঘরে রয়েছে। ২৪ প্রকার বিষ্ণুমূর্তির একটি হচ্ছে বাসুদেব। সেন আমলের পরে বাংলায় আর কালো পাথরের বাসুদেব তৈরি হয়নি।

মন্দিরের স্থলে মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া বলেন, মোগল আমলে ঢাকায় যে ধর্মীয় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, তাতে মন্দির ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করার কথা নয়। কাজেই অনুমান করা যায়, প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপরে মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। পাল ও সেন আমলে বুড়িগঙ্গা, দোলাই ও নড়াই নদীর তীরে শহর ছিল। একপর্যায়ে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। মন্দিরগুলো ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়। মোগল আমলে মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির পক্ষে আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, স্থপতি সামসুল ওয়ারেস, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমদ, লেখক-গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ নূরুদ্দিন ফতেহপুরী, স্থপতি আলী নকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শামীম বানু, ফারসি বিভাগের শিক্ষক আহসানুল হাদী প্রমুখ মান্ডা মসজিদসহ ঢাকার এসব মসজিদ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। অধ্যাপক ও স্থপতি সামসুল ওয়ারেস সমকালকে বলেন, প্রত্নতাত্তি্বক খননকাজে ঢাকা উপেক্ষিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রত্নতাত্তি্বক খননকাজ হলেও ঢাকায় লালবাগ দুর্গ ছাড়া আর কোথাও খনন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঢাকার পূর্বাঞ্চলসহ বুড়িগঙ্গা, দোলাই ও নড়াই নদীর তীরে খননকাজ পরিচালিত হলে প্রাচীন অনেক প্রত্ননিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।ঢাকায় প্রত্নতাত্তি্বক খনন না করা সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকায় খনন করা হলে হয়তো প্রত্ননিদর্শন পাওয়া যাবে। বিশেষভাবে সেনপাড়া, পর্বতা এলাকায় অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাহলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে খননের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন_ জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক শাহনেওয়াজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তো খনন করে না, করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এবং তারা যেখানে প্রত্ননিদর্শন খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত বোধ করেন, সেখানেই খনন করে থাকেন। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকায় খননের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন অধ্যাপক শাহনেওয়াজ।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শিরীন আখতার সমকালকে বলেন, আপাতত ঢাকায় কোনো প্রত্নতাত্তি্বক খনন হচ্ছে না। তবে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে একটি খনন চলছে। তিনি বলেন, ঢাকায় খনন করে প্রত্ননিদর্শন পাওয়া যাবে, আমাদের কাছে এমন কোনো জরিপ নেই।

ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি বলছে, প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য খনন ভালো হতো। তবে তারা খননের অপেক্ষায় বসে না থেকে অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাচীন ঢাকার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমকালকে বলেন, উদ্যোগটা আমাদের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের। তারা ঠিক করেছিল, ঢাকার স্থাপত্যগুলো সম্পর্কে জানবে এবং শিলালিপির পাঠোদ্ধার করবে। শিলালিপির পাঠোদ্ধার করতে গিয়ে তাদের হাতে ঢাকার প্রাচীনতা নিয়ে আরও কিছু তথ্য এসেছে। তারা জানতে পেরেছে, ঢাকা শহর মাত্র ৪০০ বছরের নয়। মোগলরা হঠাৎ করে কোনো একটা এলাকায় এসে রাজধানী স্থাপন করে বসে যায়নি। ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি এরই মধ্যে যেসব আরবি, ফারসি ও উর্দু শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেছে, সেগুলো ঢাকার প্রাচীনতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তিনি বলেন, পাঠোদ্ধার করা এই শিলালিপিগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। সহসাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বইটি প্রকাশিত হবে।

ট্যাগ: ইতিহাস ঢাকা
Photo
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতি। ১৯শে মার্চ. ১৯৭১কৃতজ্ঞতা - সৌমিত্র পালিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতি।
১৯শে মার্চ. ১৯৭১
কৃতজ্ঞতা - সৌমিত্র পালিত

ট্যাগ: বঙ্গবন্ধু
Link

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হলগুলোতে নানা অজুহাতে ছাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। অথচ ছেলেদের হলে জরিমানার বালাই নেই। পরিচয়পত্র ও সমাবর্তন বাবদ বাড়তি ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এমন বৈষম্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হলটির কথা বাদ দিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য হল আছে ১৩টি, আর মেয়েদের পাঁচটি। দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজের জন্য অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরও এগুলোর কোনো কোনোটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হয়। বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি সামসুন নাহার হলের বিরুদ্ধে।
সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) সহিদ আকতার হুসাইন জানান, হলের প্রাধ্যক্ষ আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে ঠিক করেন হলটি কীভাবে পরিচালিত হবে। সিট ভাড়া বা সংস্থাপন ফির মতো বিষয়গুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ (অর্ডার), ১৯৭৩ অনুযায়ী, জরিমানা এবং বেশ কিছু ফিয়ের পরিমাণ নির্ধারণে হল কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতা রয়েছে। সহ-উপাচার্য আরও বলেন, মেয়েদের ভালোর জন্যই জরিমানার বিধান। তা ছাড়া মেয়েদের হলে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়তি খরচ হয়। তাই হলগুলো বেশ কিছু ফি নেয়, যেগুলো ছেলেদের হলে নেই। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা অবশ্য বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেও তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তবে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক একে বৈষম্য বলতে রাজি নন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এটি বৈচিত্র্যের বিষয়, হল থেকে হলে পার্থক্য থাকবে।’
ছেলেদের চারটি হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক এবং বিভিন্ন হলের নিবাসী ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জরিমানার রেওয়াজ তাঁদের নেই। ছেলেদের অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কিছু জিনিস আইন করে বা শাস্তি দিয়ে শোধরানো যায় না।
অন্যদিকে পাঁচটি ছাত্রী হলেই কমবেশি জরিমানা আছে। পরিচয়পত্র দেরিতে হালনাগাদ করলে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত শামসুন নাহার হল কর্তৃপক্ষ ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা নিত। ছাত্রীদের অসন্তোষের মুখে এখন এটা ৫০ টাকায় নেমেছে।
রোকেয়া হল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এ জরিমানার হার ১০ টাকা। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলে আবার এ খাতে কোনো জরিমানাই নেই।
পরিচয়পত্র হালনাগাদের ফি শামসুন নাহার হল নিচ্ছে ১০ টাকা করে। ফজিলাতুন্নেছা ও মৈত্রী হল নেয় ৩০ টাকা। আর সুফিয়া কামাল হল নিচ্ছে ৫০ টাকা। ছেলেদের হলে এই ফি ১০ টাকা অথবা কিছুই না।
স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেওয়ার পর শামসুন নাহার হলে বাড়তি কয়েক মাস থাকার জন্য ছাত্রীদের জরিমানা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্ধিত (এক্সটেনশন) ভবনের এক ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁর পাশের ঘরের এক বাসিন্দা ২০১৩ সালে এভাবে বাড়তি কয়েক দিন হলে ছিলেন। এ জন্য তিনিসহ ওই কক্ষের আটজন বাসিন্দাকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।
ছাত্রীদের দাবি, মেয়েদের নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবের বিবেচনায় তাঁদের বাড়তি কিছুদিন থাকতে দেওয়া উচিত। ছেলেদের দুটি হলের প্রাধ্যক্ষরা জানিয়েছেন, মেয়াদ ফুরোবার পর অতিরিক্ত সময় থাকলে ছাত্রদের জরিমানা করা হয় না।
গত ডিসেম্বরে শামসুন নাহার হলে অনার্স ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ময়লা ফেলার জন্য দুজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে হল কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ ভবনের একজন ছাত্রী বলেন, ২০১২ সালে তাঁর রুমমেট একদিন বারান্দা থেকে পানি ঢেলে চামচ ধুয়েছিলেন। কর্মকর্তারা দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। মেয়েদের অন্য হলগুলোতে এ ধরনের ঘটনায় কোনো জরিমানা হয় না।
শামসুন নাহার হলবাসীর অভিযোগ, প্রাধ্যক্ষ তাঁর ইচ্ছেমতো জরিমানা নিচ্ছেন। প্রাধ্যক্ষ সাজেদা বানুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য বললেন, ‘আমি হলের ব্যাপারে কোনো কথা বলব না। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা আমার পছন্দ না।’
জরিমানার টাকা কোন খাতে ব্যয় হয় জানতে চাইলে এ হলের এক কর্মকর্তা বলেন, এটা ছাত্রীদের জন্যই খরচ করা হয়। তিনি বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে জরিমানার টাকায় হল মিলনায়তনের জন্য সাউন্ড সিস্টেম ও প্রজেক্টর কেনা হয়েছে।
সুফিয়া কামাল হলে একজন আবাসিক শিক্ষক অনুমতি দিলে দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে কিছু তথ্য দেন। পরক্ষণে ওই শিক্ষক ‘প্রাধ্যক্ষের অনুমতি নেই’ বলে আরেকজনকে দিয়ে প্রতিবেদকের নোট খাতা থেকে পাতা ছিঁড়ে নেন।
এদিকে সমাবর্তনের জন্য মূল ফি কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়, বিভিন্ন হল নিচ্ছে বাড়তি টাকা। ২০১৩ সালে সমাবর্তনের সময় শামসুন নাহার, কুয়েত মৈত্রী ও ফজিলাতুন্নেছা হল মেয়েদের কাছ থেকে খাত উল্লেখ না করে ৫০০ টাকা করে জমা নেয়। কিন্তু মেয়েরা বলেন, প্রতিবাদ করলে টাকাটা অর্ধেকে নেমে আসে। চলতি বছরের সমাবর্তনে ছাত্রী হলগুলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নিয়েছে। অন্যদিকে ছেলেদের দুটি হলে নিবন্ধন ফরমের খরচা বাবদ ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ: নারী বৈষম্য
Link

কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪, ০৪:০০:১

1

সারদার জল এ বার গড়াল বাংলাদেশেও।

সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে কাজে লাগানো হয়েছে সারদার কোটি কোটি টাকা। আর তার সঙ্গে জড়িত তৃণমূল সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান। এ ব্যাপারে ভারতের কাছে সরকারি ভাবে অভিযোগও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে সরব হয়েছেন বাংলাদেশের জামাত-উপদ্রুত দুই এলাকা রাজশাহি ও সাতক্ষীরার দুই সাংসদ। যদিও ইমরান নিজে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জামাতের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।

কী বলা হয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্টে?

সে দেশের তদন্তকারীদের দাবি, ২০১২-’১৩ সালে ইমরানের মাধ্যমে ভারত থেকে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পৌঁছেছে জামাতে ইসলামি ও তাদের নানা শাখা সংগঠনের হাতে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকার জামাতের প্রথম সারির নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা শুরু করার পরে বাংলাদেশে দাঙ্গা, নাশকতা ও সন্ত্রাস শুরু করেছিল মৌলবাদীরা। সরকার জামাতকে নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলে ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে বকলমে আরও একটি মৌলবাদী সংগঠন গজিয়ে ওঠে। তারা ঢাকা অবরোধ করে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিল। গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, সেই কাজে ইন্ধন জোগাতেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। যার একটা বড় অংশ সারদা অর্থলগ্নি সংস্থার।

ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্টও এই বক্তব্যকে অনেকটাই সমর্থন করছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্টে অবশ্য এই দাবিও করা হয়েছে যে, ইমরানের মাধ্যমে অর্থের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের বেশ কয়েকটি চালানও ভারত থেকে পৌঁছে গিয়েছিল জামাতের হাতে।

কী ভাবে?

ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সারদার বেশ কিছু অ্যাম্বুল্যান্সে কাঁচা টাকার বান্ডিল ভরে তা নিয়ে যাওয়া হতো বনগাঁ, বসিরহাট, নদিয়া, মালদহ, বালুরঘাট ও কোচবিহারের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে। তার পরে তা বাংলাদেশি টাকা, ডলার বা ইউরোয় পরিবর্তন করে জামাতের এজেন্টদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া সাংসদ কুণাল ঘোষও ইডি-কে লেখা চিঠিতে সারদার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির কাছে টাকার বান্ডিল চালান যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া, হাওয়ালা ও হুন্ডির মাধ্যমেও গিয়েছে সারদার টাকা। বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জামাত পরিচালিত বেশ কিছু হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেনামে লগ্নিও করেছে সারদা। সেই অর্থও কার্যত জামাতের ‘জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন’-এই খরচ হয়েছে।

রাজশাহির সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিজেদের নেতাদের বিচার বানচাল করতে বাংলাদেশ জুড়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস শুরু করেছিল জামাতে ইসলামি। রেললাইন উপড়ে, বাস-ট্রেন জ্বালিয়ে অজস্র মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে তাঁদের প্রতিরোধ করেন। বাদশা বলেন, “বিশেষ করে রাজশাহি ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এই সন্ত্রাস মাত্রাছাড়া হওয়ায় ভারত থেকে থেকে অস্ত্র-বিস্ফোরক ও অর্থ আসার বিষয়ে আমরা সন্দিহান হই। পরে পুলিশ ও আধাসেনারা এই সব জায়গায় অভিযান চালিয়ে বহু মৌলবাদীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।”

সাতক্ষীরার সাংসদ মুস্তাফা লুৎফুল্লা বলেন, “জামাতের দুষ্কৃতীরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। সেখানে শাসক দলের নেতারা তাদের আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করছে বলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর আছে। সন্ত্রাসের সময়েও সীমান্ত-পার থেকে নিয়মিত অর্থের জোগান পেয়েছে মৌলবাদীরা।”

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই বাংলাদেশের জামাতে ইসলামির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু উর্দুভাষী নেতার দহরম মহরম শুরু হয়। ২০১১-র ভোটে সীমান্ত এলাকায় জামাত কর্মীরা তৃণমূলের হয়ে কাজ করে। সে সময়ে তৃণমূলকে অর্থেরও জোগান দিয়েছিল জামাতে ইসলামি। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেই সুসম্পর্ক থেকেই পরবর্তী কালে জামাতকে তৃণমূল শুধু পাল্টা সাহায্যই করেনি, তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি আটকে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকেও বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত নীতির বিষয়ে মমতা বরাবর জামাতের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ রাখা উর্দুভাষী নেতাদের মতামতই মেনে চলেছেন বলে গোয়েন্দা রিপোর্টের দাবি।

বাংলাদেশের এক কূটনীতিকের মতে, শেখ হাসিনার আমলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক যতটা মধুর হয়েছে, ততটাই তেতো হয়েছে কলকাতার সঙ্গে। এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে মমতার কট্টর বিরোধিতাকে। ওই পদস্থ কূটনীতিকের দাবি, তৃণমূলের জামাত-ঘনিষ্ঠ নেতারাই মমতাকে এ কাজে প্রভাবিত করতে সফল হয়েছেন। ওই নেতারাই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা জামাতের দুষ্কৃতীদের কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় মাসের পর মাস আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়টিও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। ওই কূটনীতিকের অভিযোগ, তার পরেও সেই সব আশ্রয়শিবির কিন্তু বহাল রয়েছে। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে এই সব অনুপ্রবেশকারী জামাত কর্মীরা তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

এই সব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতেই প্রাক্তন সিমি নেতা, বর্তমান তৃণমূল সাংসদ ইমরানকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ এ দিন বলেন, “সিমি-কে নিষিদ্ধ করার সময়ে মমতা কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলেন। তিনি সবই জানতেন। তার পরেও কেন তিনি ইমরানকে রাজ্যসভায় পাঠালেন?” তাঁর দাবি, জামাতের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই তৃণমূল নেত্রী এই প্রার্থী বাছাই করেছেন। মমতার এই কাজকে ‘দেশদ্রোহ’ বলে মন্তব্য করে ওই বিজেপি নেতার অভিযোগ, এক জন মুখ্যমন্ত্রীর এমন কাজের জন্য রাজ্যে জঙ্গি ও দুষ্কৃতীরা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে।

Photo
চাঁদ খালি চোখেই দেখা যায় মাননীয় স্পিকার। বুড়ো চাঁদটারে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করলেও দেখা যায় না করলেও দেখা যায়।

চাঁদ খালি চোখেই দেখা যায় মাননীয় স্পিকার। বুড়ো চাঁদটারে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করলেও দেখা যায় না করলেও দেখা যায়।

Photo
ইয়ে …. এটা কোন দেশের পত্রিকা?

ইয়ে …. এটা কোন দেশের পত্রিকা?

Text

ডিয়ার বিডিনিউজ২৪ নিউজডেস্ক, ১ মিটার = ৩ ফুট ৩.৩৭ ইঞ্চি

মহসীন মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সাংবাদিকেরা উনার বক্তব্যের সমস্যাগুলো ঠিকঠাকমতো চিহ্নিত না করে আশপাশে ঝোপঝাড় পেটাচ্ছেন। এর মধ্যে একটা ঝোপ যেটা নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে সেটা হলো মন্ত্রী নাকি এইট পাশ (নাকি ফেল?)।

শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন সাংবাদিকদেরও করা যায়। বিষয়টা এরকম যে চালুনি সুইকে বলছে তার পাছায় ফুটো।

আজকে বিডিনিউজ২৪-এ মাঝ আকাশে অল্পের জন্য রক্ষা শিরোনামে নিউজ করেছে। সেখানে এক পর্যায়ে লিখেছে

সুভাষ বসু বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের একজন কর্মকর্তা বলেন, আকাশ পথে ওপরে ও নিচ দিয়ে চলা দুটি বিমানের মধ্যে অন্তত এক হাজার ফুট ব্যবধান রাখার নিয়ম। কিন্তু ওই সময় ইউনাইটেড ও সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমান দুটি ৭০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।

Photo
৭ই অগাস্ট ২০১৪ তারিখে তথ্যমন্ত্রনালয়ের প্রেসনোট

৭ই অগাস্ট ২০১৪ তারিখে তথ্যমন্ত্রনালয়ের প্রেসনোট

Photo
বিশ্ব ***** দিবস উপলক্ষে আইনসম্মত শুভেচ্ছা।

বিশ্ব ***** দিবস উপলক্ষে আইনসম্মত শুভেচ্ছা।

ট্যাগ: শান্তি