Text

R for big data: কী কী লাগবে আপনার

ট্যাগ: R
Photo
আমি তাদের দোষ দেই না। দেশটা পাকিস্তান বলে কথা।

আমি তাদের দোষ দেই না। দেশটা পাকিস্তান বলে কথা।

Text

চলো ঝাঁকাই!

সাজেস্টিভ এ্যাডভার্টাইজমেন্ট বাংলাদেশে মাঝে মাঝেই হয়। একবার এক দুধের এ্যাড বানানো হলো। সাথে গান “দুধ দুধ দুধ!” স্কৃনে স্তনাকৃতির দুধের পোটলা! দুষ্টু নিয়তে তৈরি এইসব এ্যাড টার্গেট গ্রুপে সঠিক ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে কিনা সেইটা গবেষণার বিষয়। তো গতকাল প্রথম আলোতে এরকম একটা সাজেস্টিভ এ্যাড এসেছে। তিনটা মেয়ে “ঝাকাচ্ছে” এরকম এক ছবি এবং বিজ্ঞাপণের মূল ডায়লগ “ঝাঁকির ফল ফুর্তির হয়”। অবশ্যই! তিনটা মেয়ে “ঝাকাচ্ছে” এবং সেইটার ফল “ফুর্তি”র না হয়ে যাবে কোথায়!

চলুন দেখা যাক বিজ্ঞাপণটা কীরকমের,

বিজ্ঞাপণের নিচের দিকে দেখলাম দেখলাম লেখা আছে “প্রাণ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক-এ আছে আসল আমের পাল্প, তাই আসল মজা পেতে চলো ঝাঁকাই”। এইটাও বেশ ইন্টারেস্টিং তারা আসল পাল্পের কথা উল্লেখ করছে মানে হলো আসল নকল দুই ধরণের পাল্প আছে সেটা তারা এক ধরণের স্বীকার করে নিলো। কে কে আসল পাল্প আর নকল পাল্প মেশায় সেটা আসলে তদন্ত করে দেয়া দরকার। তদন্ত করলে কে আসল জিনিস ঝাঁকানোর কথা বলছে, আর কে নকল জিনিস (সিলিকন?) ঝাঁকানোর বলছে সেটা বের হয়ে আসবে।

ট্যাগ: বিজ্ঞাপণ
Text

সাইক্লোন মহাসেন: সর্বশেষ আপডেট

ঢাকা সময় ১২০০, ১৫ই মে ২০১৩
গতিবেগ ঘন্টায় ৮০ কি.মি. থেকে ১০৫ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ৬৭৮ কি.মি. দুরে
ঝড়ের অবস্থান Lat: 17.5 Lon: 87.8 
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat: 22.30 Lon: 91.8 
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ২১ কি.মি/ঘন্টা

সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর ও মংলা বন্দরকে ৫ নাম্বার সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আল জাজিরা রিপোর্ট

ওয়েস্টপ্যাক রিপোর্ট

আগের আপডেটগুলো: [লিংক]

Text

সাইক্লোন মোহাসেন গতিপথ ও অন্যান্য তথ্য - আর্কাইভ

সর্বশেষ আপডেট



আপডেট: ঢাকা সময় ১৮০০, ১৪ই মে ২০১৩
গতিবেগ ঘন্টায় ৮০ কি.মি. থেকে ১০৫ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১০২৬ কি.মি. দুরে
ঝড়ের অবস্থান Lat: 14.8 Lon: 86.2
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ১৩ কি.মি/ঘন্টা
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন ফোরকাস্টিং মডেল অনুযায়ী মোহাসেনের গতিপথ




১৩ইমে ফোরকাস্টিং মডেল অনুযায়ী মোহাসেনের গতিপথ। লক্ষ্যনীয় এখানে ৪টি মডেল বাংলাদেশের দিক দিকনির্দেশ করছে।



আপডেট: ঢাকা সময় ১২০০, ১৪ই মে ২০১৩

গতিবেগ ঘন্টায় ৮০ কি.মি. থেকে ১০৫ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১১০০ কি.মি. দুরে
ঝড়ের অবস্থান Lat: 14.2 Lon: 85.8
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ১৩ কি.মি/ঘন্টা
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আপডেট: ঢাকা সময় ০৬০০, ১৪ই মে ২০১৩
গতিবেগ ঘন্টায় ৯৭ কি.মি. থেকে ১২১ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১১৭৬ কি.মি. দুরে
ঝড়ের অবস্থান Lat: 13.70 Lon: 85.3
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ১৪ কি.মি/ঘন্টা
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আপডেট: ঢাকা সময় ১৮০০, ১৩ই মে ২০১৩

গতিবেগ ঘন্টায় ৯৭ কি.মি. থেকে ১২১ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১২৭৬ কি.মি. দুরে
ঝড়ের অবস্থান Lat: 12.40 Lon: 85.70
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ১৬ কি.মি/ঘন্টা
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আপডেট: ঢাকা সময় ১২০০, ১৩ই মে ২০১৩

গতিবেগ ঘন্টায় ৯৭ কি.মি. থেকে ১২১ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১৩০০ কি.মি. দুরে [সংশোধিত]
ঝড়ের অবস্থান Lat: Lat 11.8, Long 86.4
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
গতিপথ: চট্টগ্রামের দিকে ৬ কি.মি/ঘন্টা
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আপডেট: ঢাকা সময় ০৬০০, ১৩ই মে ২০১৩
গতিবেগ ঘন্টায় ৯৭ কি.মি. থেকে ১২১ কি.মি.
অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনুমানিক ১৪৩৮ কি.মি দুরে [সংশোধিত]
ঝড়ের অবস্থান Lat: Lat 10.2, Long 87
চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান: Lat 22.30 Lon: 91.8
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আপডেট: ঢাকা সময় ১৮০০, ১২ই মে, ২০১৩
গতিবেগ ৮০ কি.মি. থেকে ১০৫ কি.মি পর্যন্ত।
অবস্থান: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দুরে।

ধেয়ে আসছে সাইক্লোন মোহাসেন। বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা এই সাইক্লোনের গতিপথ আন্দাজ করা হচ্ছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সীমান্তবর্তী মায়ানমারের ওপর দিয়ে যাবে। অনুমান করা হচ্ছে আগামী ১৬-১৭তারিখে বাংলাদেশের ওপর এসে পড়বে। ভুনড্যারগ্রাউন্ড সাইটের লাইভ আপডেট অনুযায়ী লাইভ আপডেট অনুযায়ী ঝড়ের অবস্থান ও গতিপথ,

মূল সাইটে যেতে এখানেক্লিক করুন। এখানে লক্ষ্যনীয়, উপরের ছবিতে উপরের সবুজ চিহ্নটি দিয়ে আগামি ২৪ঘন্টার ফোরকাস্ট, দ্বিতীয় চিহ্ন দিয়ে ১২ঘন্টার ফোরকাস্ট ও তৃতীয় সবুজ ডটটি দিয়ে এই মুহুর্তের অবস্থান বোঝানো হচ্ছে।

আমেরিকান এয়ারফোর্সের করা আনুমানিক গতিপথ দেখাচ্ছে এরকম,

ইন্ডিয়ান মেটিওরোলিজিকাল ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ফোরকাস্ট এরকম,

এই মুহুর্তে এই সাইক্লোনটির গতি কম থাকলেও এটি যাত্রাপথে শক্তি সঞ্চয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র
১. ভুনড্যারগ্রাউন্ড সাইটের লাইভ আপডেট [লিংক]
২. আমেরিকান এয়ারফোর্সের ইমেজ [লিংক]
৩. ইন্ডিয়া মেটিওরোলিজিকাল ডিপার্টমেন্টের সূত্র [লিংক]

Text

রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজাকার একেএম ইউসুফকে একটু আগে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা চুড়ান্ত করা হয়। চলুন দেখা যাক তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী কী। বাংলানিউজ২৪ বলছে,

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ১৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু করে গত ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত করে ১১১ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন। এর সঙ্গে ৭০ খণ্ডে ২৩৪৬ পৃষ্ঠার ডকুমেন্টস দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগে আনুমানিক ৭০০ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, হিন্দু সম্প্রদায়ের আনুমানিক ২০০ জনকে ধর্মান্তরকরণ, আনুমানিক ৩০০ বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করা এবং প্রায় ৪০০ দোকান লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ কে এম ইউসুফ রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। রাজাকার নামটিও তার দেওয়া। একাত্তরে আনসার বিলুপ্ত করে দিয়ে তিনিই প্রথম খুলনায় প্রতিষ্ঠা করেন রাজাকার বাহিনী। ৯৬ জন জামায়াত কর্মীকে নিয়ে খুলনার খান জাহান আলী সড়কের একটি আনসার ক্যাম্পে ১৩ মে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধকালে খুলনায় রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠা, ডা. মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সকল সহযোগী বাহিনীকে নেতৃত্ব দানের কারণে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায়েও।

ইউসুফের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার ৬ জন সাক্ষীসহ ৭১ জন সাক্ষী করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। তার নেতৃত্বে বাগেরহাট জেলার কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তরকরণ, অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানো হয়।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা, শান্তি কমিটির খুলনা জেলার চেয়ারম্যান এবং মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ইউসুফের বিরুদ্ধে খুলনায় গণহত্যা, হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে নেতৃত্বে দেওয়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার দায়িত্ব পালনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। ডা. মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে গণহত্যা ও যুদ্ধপরাধে সক্রিয় সহযোগিতা দেন। এছাড়া খুলনায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীসহ পাকিস্তানি বাহিনীর সকল সহযোগী বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তিনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধ্বতন নেতৃত্ব) অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দালালি করার দায়ে মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে এ কে এম ইউসুফের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউসুফের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মুন্সি আজিম উদ্দিনের পুত্র৷ পাকিস্তানি আমলে খুলনা শহরের টুটপাড়ায় দিলখোলা রোডে এসে বসবাস শুরু করেন৷ ছাত্র জীবনে তিনি জমিয়তে তালাব-ই-আরাবিয়ার একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালে জামায়াতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে খুলনা বিভাগের আমির ছিলেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে জামায়াতের প্রাদেশিক জয়েন্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের ডেপুটি আমির হন। ১৯৭১ সালে বৃহত্তর খুলনার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হন এবং সশস্ত্র রাজাকার বাহিনী গঠন করেন।

জামায়াতের বর্তমান সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা এ কে এম ইউসুফ একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী। একাত্তরের এপ্রিলে ঢাকায় গঠনের পর পরই কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির নির্দেশে খুলনা জেলা শান্তি কমিটি গঠন করেন ইউসুফ। তিনি নিজেই এ কমিটির চেয়ারম্যান হন। খুলনা জেলা শান্তি কমিটির আওতায় ছিল তৎকালীন খুলনা সদর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট মহাকুমা। পাকিস্তান অবজারভারসহ সে সময়কার পত্র-পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর প্রত্যেক মহাকুমা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও জামায়াত, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করেন ইউসুফ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউসুফের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো খুলনার নয়টি প্রধান নির্যাতন সেল। রাজাকার বাহিনীর ৯৬ ক্যাডার মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাস সেসব সেলে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের ওপর। সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হতো শহরের প্রধান চারটি স্থানে।

খুলনার তৎকালীন ভূতের বাড়ি (বর্তমানে আনসার ক্যাম্পের হেড কোয়ার্টার) ছিল তার রাজাকার বাহিনীর হেড কোয়ার্টার এবং প্রধান নির্যাতন সেল। আরও দু’টি প্রধান নির্যাতন সেল ও রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্প ছিল বর্তমান শিপইয়ার্ড ও খালিশপুরে। এছাড়া পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মূল ক্যাম্প সার্কিট হাউস (ডাক বাংলো) এবং পাকিস্তানি বাহিনীর অপর চারটি ঘাঁটি হেলিপোর্ট, নেভাল বেস, হোটেল শাহিন ও আসিয়ানা হোটেলও হয়ে উঠেছিল এই বাহিনীর নির্যাতন সেল। প্রথম তিনটি নির্যাতন সেল পরিচালিত হতো সরাসরি রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্বে আর পাকিস্তানি বাহিনীর অবশিষ্ট চারটি ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হতো। অন্যদিকে ডাকবাংলোর পাকিস্তানি বাহিনীর সদর দফতরেই ছিল শান্তি কমিটির সদর দফতর৷ সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর অধিনায়ক কর্ণেল শামসের রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন ইউসুফ৷

আর অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই সংঘটিত হয়েছে গঙ্গামারি, সার্কিট হাউসের পেছনে ফরেস্ট ঘাঁটি, আসিয়ানা হোটেলের সামনে ও স্টেশন রোডসহ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফের কথামতো খালেক মেম্বার ও আদম আলীর মতো আরো কয়েকজন রাজাকার সে সময় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পরে আরো অসংখ্য নারী-পুরুষকে হত্যা করেছে এবং নারী ধর্ষণ করেছে। রাজাকার বাহিনী গঠনের পর ইউসুফ মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা থেকে বহু লোককে জোর করে ধরে নিয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন। যারা রাজি হননি, তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। অনেকের লাশও পাওয়া যায়নি।

তাদেরই একজন শহীদ আবদুর রাজ্জাক। একাত্তরের আষাঢ় মাসের একদিন রাজাকার খালেক মেম্বার রাজ্জাককে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে বলেন। রাজ্জাক তা প্রত্যাখ্যান করলে সে মাসের ১১ তারিখ সকালে খালেক মেম্বার ও অপর রাজাকার আদম আলী পুনরায় বাসায় এসে রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যান।

সেদিন সন্ধ্যায় রাজ্জাকের মা গুলজান বিবি জানতে পারেন, তার ছেলেকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য মা গুলজান বিবি রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফের কাছে যান এবং তার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে করজোড়ে অনুরোধ জানান। সে সময় ইউসুফের সঙ্গে খালেক মেম্বারও ছিল। তারা দু’জনই জানিয়ে দেন, রাজ্জাককে ছাড়ানোর ব্যাপারে কোনো অনুরোধেও কাজ হবে না। পরে গুলজান বিবি তার ছেলেকে আর পাননি। সন্ধান পাননি লাশেরও।

একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান সরকার জাতীয় পরিষদের আসনগুলো শূন্য ঘোষনা করে৷ ইউসুফ শরণখোলা এলাকা থেকে এম এন এ নির্বাচিত হন। এসব এমএনএদের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থনে গঠিত ডা. মালেকের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দু’জন সদস্য ছিলেন। তাদের একজন এই ইউসুফ ছিলেন রাজস্ব, পূর্ত, বিদ্যুৎ ও সেচ মন্ত্রী। অপরজন সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খান শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। আব্বাস আলী খান বেঁচে নেই। মুক্তিযুদ্ধের পর তারা দু’জনসহ ওই মন্ত্রিসভার সব সদস্য গ্রেফতার হন।

বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে স্বাধীনতার পর আর সকলের সঙ্গে ইউসুফেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ১৭ ডিসেম্বর পত্র-পত্রিকায় সে সংবাদ ছাপা হয়। বাংলার বাণী পত্রিকায় ওই সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘দালাল মন্ত্রী ইউসুফের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’।

সংবাদটি থেকে জানা গেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দালালি করার অভিযোগে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মালেক মন্ত্রীসভার সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাসহ ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। আদালতের রায়ে অন্য অনেকের সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় একেএম ইউসুফের।

কিন্তু পরে সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় ১৯৭৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পান ইউসুফ।

অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আব্বাস আলী খান ও মাওলানা ইউসুফসহ মালেক মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকেরা সংবর্ধনা দেন। পরদিন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় তা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয় তাতে দেখা যায়, ওই অনুষ্ঠানে ইউসুফ বলেছিলেন, ‘যুব সমাজকে পাকিস্তান সৃষ্টির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি বলেই তারা আজ নিজেদের পাকিস্তানি ও মুসলমান পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে।’

২৫ সেপ্টেম্বরের সংগ্রামের প্রথম পাতায় তেজগাঁও থানা শান্তি কমিটি মালেক মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই খবরে দেখা যায়, এ কে এম ইউসুফ তার বক্তব্যে বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ইসলামের দুশমনরা এর অস্তিত্ব ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন পন্থায় তারা এই ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে।’ মার্চ মাসের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপকেও ইউসুফ এই ষড়যন্ত্রের পরিণাম বলে উল্লেখ করেন।

১৮ অক্টোবর সংগ্রামে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালেক মন্ত্রিসভার রাজস্ব মন্ত্রী ইউসুফ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলার যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের পেছনে আমাদের সাহসী জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।’

২৮ নভেম্বর করাচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে ইউসুফ বলেছিলেন, ‘রাজাকাররা আমাদের বীর সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় হামলার মোকাবিলা করছে।’ তিনি রাজাকারদের হাতে আরও আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার দাবি জানান। পরদিন ২৯ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশ হয়।

এছাড়া ১০ অক্টোবর খুলনার জনসভায়, ২৬ অক্টোবর সিলেটের জনসভায়, ১২ নভেম্বর সাতক্ষীরার রাজাকার শিবির পরিদর্শনকালে এবং বিভিন্ন সময় তার বক্তৃতা-বিবৃতিতে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব বক্তৃতা-বিবৃতি পরের দিন দৈনিক বাংলার বাণী, দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

এ কে এম ইউসুফ খুলনায় রাজাকার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে নেতৃত্বে দেওয়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার দায়িত্বও পালন করেন।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪ [মূল খবর থেকে সংক্ষেপিত আকার প্রকাশিত হলো][লিংক]

Text

মুন্নি সাহার “ফ্রেশ” তত্ত্বের বিপরীতে কিছু ছবি

ইংরেজিতে সাজেস্টিভ স্টেটমেন্ট/প্রশ্নমালা নামে একটা শব্দযুগল ব্যবহৃত হয়। বাংলায় এটা ইঙ্গিতপূর্ন কথা/প্রশ্ন বলা যায়। রান্না প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ১৭দিন পরে রেশমা নামে একজনকে উদ্ধারের পর এটিএন বাংলার সাংবাদিক মুন্নি সাহার কিছু সাজেস্টিভ প্রশ্নমালার কথা শুনছিলাম ফেইসবুকে খন্ড খন্ডভাবে। আজ হাতে ভিডিওটা আসার পরে পরিস্কার হলো আসলে মুন্নি সাহা কী বলেছিলো তখন। পুরোটা শুনে মনে হলো সে রেশমাকে উদ্ধার একটা সাজানো নাটক এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিলো। হাতে যে ভিডিওটা আছে সেখানে সে প্রথমে জিজ্ঞেস করছে,

আপনারা তো এখান থেকে ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে আপনারা সরানো শুরু করেছিলেন। হঠাত করে সাইডে এরকম একটা গর্ত দেখা গেল ও ওখান থেকে উনি একটা লাঠি দিলো সেটা কীভাবে সম্ভব হলো?

মুন্নি সাহা এখানে গর্ত হঠাত করে দেখা গেল বললেন। ধ্বংসস্তুপের ওপর ছোট ছোট গর্ত করা হচ্ছিলো প্রথম থেকেই। এখানে উনি “হঠাত” বলে কী সাজেস্ট করলেন সেটা ভেবে দেখার অবকাশ আছে। তো এরপরে মুন্নি সাহা বললেন,

এবং আমরা দেখলাম মেয়েটা মোটামুটি সুস্থ্য, একেবারেই সুস্থ্য, ওর জামাকাপড়ও তো পরা আছে, মনে হচ্ছে একেবারে ফ্রেশ, সেটা ১৬ দিন ধরে কীভাবে সম্ভব হলো? সে তো ১৬দিন ধরে এর ভেতরে আছে, সেটা কীভাবে সম্ভব হলো, ধরেন ..

এরপর কিছুক্ষণ বিরক্তিকর খাবার কীভাবে পেল এই নিয়ে শুলুক সন্ধান। পুরো ভিডিওটা দেখুন এখানে,

আমি এই ফ্রেশ শব্দটা নিয়ে ভাবছিলাম কিছু সময়। ১৬-১৭দিন সামান্য খাবারের ওপর টিকে থেকে একজন মানুষ ফ্রেশ থাকে কী করে এটা ভ্যালিড প্রশ্নই। এটা আরোও ভ্যালিড এই কারণে যে প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক রেশমাকে “ফ্রেশ” দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। আজ প্রথম আলো ঘাটতে গিয়ে এই “ফ্রেশ” রেশমার কিছু ছবি পেলাম। দেখুন সেগুলো একেক করে,

রেশমার এইরকম বিধ্বস্ত চেহারা দেখে মুন্নী সাহার মুখে কীভাবে “ফ্রেশ” শব্দটা বের হলো সেটা ভেবে অবাক হচ্ছি। সরকার একটা সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে এইরকম ইঙ্গিতপূর্ন প্রশ্ন মানুষ জনের মনে এম্বেড করলে কার কী লাভ হতে পারতো সেটাও ভেবে দেখা দরকার।

Text

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি

কে এই কামারুজ্জামান

১৯৭১ সালে কামারুজ্জামান ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ-এর ময়মনসিংহ জেলার প্রধান। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে প্রথম যে আলবদর বাহিনী গড়ে ওঠে, তার প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই ময়মনসিংহ জেলার সকল ছাত্রসংঘকর্মীকে আলবদর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট তারিখে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পাকিস্তানে ২৫তম আজাদী দিবস উপলক্ষে গত শনিবার মোমেনশাহী আলবদর বাহিনীর উদ্যোগে মিছিল ও সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এই সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক জনাব কামারুজ্জামান। এক তারবার্তায় প্রকাশ, সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বক্তাগণ দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দুশমনদের সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।’

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাতক বাহিনী ‘আলবদর’-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য নিয়ে নির্মিত ‘আলবদর : এ কিলিং স্কোয়াড অব পাকিস্তান আর্মি, ১৯৭১’ নামের প্রামাণ্যচিত্রে কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধ উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, জামালপুরে কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর যে সাতটি ক্যাম্প ছিল, তার মধ্যে শেরপুরের সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়ির ক্যাম্পটি ছিল সবচেয়ে বিভীষিকাময়। ক্যাম্পটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন কামারুজ্জামান। অন্তত ৮০-৯০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এই ক্যাম্পেই। দিনের পর দিন ক্যাম্পের অন্ধকার কুঠুরিতে আটকে রেখে চালানো হয়েছে অসহ্য নির্যাতন। এসব নির্যাতন আর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন আলবদর বাহিনীর জামালপুর সাবডিভিশনের প্রধান আবদুল বারী এবং সদস্য নাসির ও কামরান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আশরাফের সহযোগী আবদুল বারীর একটি ডায়েরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, বন্দি ও হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এই আশরাফেরই অন্য সহযোগী ছিলেন কামারুজ্জামান। ডায়েরিতে কামারুজ্জামানের নির্দেশেই যে টর্চার ক্যাম্পে বন্দি গোলাম মোস্তফা তালুকদারকে গুলি করে হত্যা করা হয় সে কথার উল্লেখ আছে।

শেরপুরের বাসিন্দা ফজলুল হক তাঁর ছেলে বদিউজ্জামানকে হত্যার জন্য কামারুজ্জামানকে দায়ী করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২ মে বদিউজ্জামানের বড় ভাই হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৮ জন আসামির অন্যতম ছিলেন কামারুজ্জামান। মামলাটির নম্বর ২(৫) ৭২ ও জিআর নম্বর ২৫০ (২) ৭২।’

২০১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া সূচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই, ২০১০ তারিখে কামারুজ্জামানকে পল্লবী থানা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগঃ ১ নির্যাতন

পাকিস্তানের বিপক্ষে অবস্থানের জন্য ১৯৭১সালের মে মাসে শেরপুর কলেজের শিক্ষক সাঈদ আব্দুল হান্নানকে নির্যাতন করা হয়। তাঁর মাথার চুল কেটে কাপড় খুলে গায়ে রঙ মাখিয়ে শেরপুর শহরে হাঁটতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগঃ ২ অপহরণ, নির্যাতন, খুন

কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আল বদরের কিছু সদস্য ২৯শে জুন ১৯৭১এ শেরপুরের বাদিউজ্জামানকে অপহরণ করার অভিযোগ করা হয়েছে। বাদিউজ্জামানকে নির্যাতন করে আহাম্মদনগর গ্রামের রাস্তায় হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়।

অভিযোগঃ ৩ গণহত্যা

কামারুজ্জামানের পরিকল্পনা ও পরামর্শ অনুযায়ী ২৫শে জুলাই ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তান আর্মি এবং তাদের স্থানীয় দোসররা সোহাগপুর গ্রামে ঝটিকা আক্রমন চালায়, অনেক মহিলাকে ধর্ষণ করে এবং অন্তত ১২০ জনকে হত্যা করে।

অভিযোগঃ ৪ অপহরণ, আটক, খুন

১৯৭১ সালে ২৩শে আগস্ট গোলাম মোস্তফা তালুকদার কে আটক করে। কামারুজ্জামানের আদেশে গোলাম মোস্তফাকে আটক করে সুরেন্দ্র সাহার পরিত্যাক্ত বাড়িতে আল বদরের আস্তানায় আটক করা হয়। পরে অভিযুক্ত এবং আর কয়েকজন মিলে তালুকদারকে শেরি সেতুর ওপরে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।

অভিযোগঃ ৫ অপহরণ, আটক, নির্যাতন

মুক্তিযুদ্ধকালে রমজান মাসের মাঝামাঝি কামারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা শেরপুরের চকবাজার থেকে লিয়াকত আলী ও মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে বাঁথিয়া ভবনের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাদের নির্যাতনের পর থানায় চার দিন আটকে রাখা হয়। পরে কামারুজ্জামানের নির্দেশে ওই দু’জনসহ ১৩ জনকে ঝিনাইগাতীর আহম্মেদনগর সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে লিয়াকত, মুজিবুরসহ ৮ জনকে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের কাছে সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। কামারুজ্জামান ও তার সহযোগী কামরান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগঃ ৬ অপহরণ ও হত্যা

একাত্তরের নভেম্বরে কামারুজ্জামানের নির্দেশে আলবদর সদস্যরা টুনু ও জাহাঙ্গীরকে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। টুনুকে সেখানে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। জাহাঙ্গীরকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগঃ ৭ আটক ও হত্যা

মুক্তিযুদ্ধকালে ২৭ রমজান কামারুজ্জামান আলবদর সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহের গোলাপজান রোডের টেপা মিয়া ও তার বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম দারাকে ধরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরদিন সকালে আলবদররা ওই দু’জনসহ সাতজনকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নিয়ে হাত বেঁধে সারিতে দাঁড় করান। প্রথমে টেপা মিয়াকে বেয়নেট দিয়ে খোঁচাতে গেলে তিনি নদীতে লাফ দেন। আলবদররা গুলি করলে তার পায়ে লাগে। তবে তিনি পালাতে সক্ষম হন। কিন্তু অন্য ছয়জনকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

সূত্র
১. উইকিপিডিয়া [লিংক]
২. আইসিটিওয়াচবিডি [লিংক]
৩. বিডিনিউজ২৪.কম [লিংক]

Video

বাঙ্গালি যতোদিন থাকবে রবীবুড়োও ততোদিন থাকবে।

ট্যাগ: সঙ্গীত
Text

হেফাজতে ইসলামের “অনলাইন মিডিয়া কর্মী”দের কাজকর্মের নমুনা

১.

২.

৩.

৪.

৫.

৬.

৭.

৮.

৯.

১০.

১১.

১২.

১৩.

১৪.

১৫.